২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

বরিশালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় টিকেট পেতে দৌঁড়ঝাপ

আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

শামীম আহমেদ: দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশাল জেলার দশটি উপজেলার সম্ভ্রাব্য প্রার্থীদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের ভোটারদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনার ঝড়। সিনিয়র নেতাদের নজর কেড়ে দলীয় টিকেট পেতে বর্তমান চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যানদের পাশাপাশি সম্ভ্যাব্য নবীন প্রার্থীরা ইতোমধ্যে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। পাশাপাশি প্রার্থীদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চালাচ্ছেন প্রচারনা।

আওয়ামী লীগের সম্ভ্রাব্য প্রার্থীরা কৌশলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানান দিলেও বসে নেই বিএনপির প্রার্থীরা। একাধিক প্রার্থীরা বলেছেন, তারা প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষন করলেও কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। আর ক্ষমতাসীন দলের সম্ভ্রাব্য প্রার্থীরা তাকিয়ে আছেন এতদাঞ্চলের আওয়ামী লীগের অভিভাবক ও জেলা সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র দিকে।

সূত্রমতে, নির্বাচন কমিশন থেকে আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথমদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং মার্চ মাসে ভোটগ্রহণের সম্ভ্রাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই বরিশালের দশ উপজেলায় বর্তমান ও সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কৌশলে নির্বাচনী মাঠে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী তা নিয়ে প্রতিটি উপজেলার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পরছে নদী বেষ্টিত মুলাদী উপজেলায়। ওই উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান মিঠু খান, যুগ্ন সম্পাদক মইনুল আহসান সবুজ কাজী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত মোস্তাক আহমেদ সেন্টুর বড়ভাই বাংলাদেশ আওয়ামী প্রজন্মলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান নিলু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী জহির উদ্দিন খসরু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও সফিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম মজিবর রহমান নলীর পুত্র মশিউর রহমান সুমন, কাজী মইনুল আহসান সবুজ, জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি মোঃ হারুন-অর রশিদ খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার খান কৌশলে নির্বাচনী মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মুলাদী উপজেলার সাধারণ ভোটারদের মতে, অতীতের উপজেলা চেয়ারম্যানদের তুলনায় সৎ ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সম্ভ্রাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন নবীন প্রার্থী জহির উদ্দিন খসরু। সূত্রমতে, উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মালেক মাস্টারের পুত্র জহির উদ্দিন খসরু শিক্ষানুরাগী হিসেবে উপজেলা সর্বত্র তার সুনাম রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে তিনি (জহির উদ্দিন খসরু) বাটামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলিমাবাদ দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তরুন সমাজ সেবক জহির উদ্দিন খসরু বলেন, ইনশাআল্লাহ আমি যদি উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মাদকমুক্ত উপজেলা ও যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য যথাযথ ব্যাবস্থা করাই হবে আমার প্রথম কাজ হবে।

অপরদিকে রাজনৈতিক সচেতন বলেখ্যাত গৌরনদী উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সাধারণ ভোটারদের আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক তরুন নেতা শিল্পপতি আলহাজ্ব মোঃ নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সী। তিনি ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দারিদ্রদের আর্থিক সহযোগিতাসহ সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে সর্বস্তরের জনসাধারণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। এবার তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন পুরো উপজেলাবাসী। নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে শিল্পপতি আলহাজ্ব মোঃ নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সী বলেন, উপজেলাবাসী চাচ্ছেন আমি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। নির্বাচনকে ঘিরে জনমানুষের যে সাড়া পাচ্ছি তাতে দল যদি আমাকে প্রার্থী করেন তাহলে আমি সহজেই জয়লাভ করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, আমার রাজনৈতিক অভিভাবক স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ চাইলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। এ উপজেলায় সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন-বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচ.এম জয়নাল আবেদীন ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া। সম্ভ্রাব্য ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কৌশলে মাঠ গোছাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন মোল্লা, খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এমদাদ হোসেন হাওলাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রনব রঞ্জন দত্ত বাবু। আওয়ামী লীগের নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোটারদের আলোচনার অগ্রভাবে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সাহিদা আক্তার। বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে গৌরনদী উপজেলায় সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের আলোচনায় রয়েছে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মনজুর হোসেন মিলন ও জেলা উত্তর মহিলা দলের সভাপতি তাসলিমা পারভীন।

বাবুগঞ্জ উপজেলার সাধারণ ভোটারদের আলোচনার অগ্রভাগে রয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার খালেদ হোসেন স্বপন। জেলার সদর উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা খান। একইভাবে বাকেরগঞ্জ, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলায়ও বর্তমান ও নতুন সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদের একাধিক প্রার্থী কৌশলে মাঠ গোছাতে ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সানিধ্য পেতে লবিং করে এগিয়ে যাচ্ছেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ