২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

নব্য জেএমবির হাল ধরতে দেশে ফিরে আসে রিপন

আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

একের পর এক জঙ্গিবিরোধী অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়া নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নব্যধারার (নব্য জেএমবি) হাল ধরতে ভারত থেকে দেশে ফিরে আসে দুর্ধর্ষ জঙ্গি নেতা মামুনুর রশিদ রিপন।

জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নব্য জেএমবির শীর্ষ অনেক নেতা নিহত ও গ্রেফতার হয়ে অনেকে কারাগারে থাকায় নেতৃত্বশূন্য সংগঠনটির হাল ধরতেই সে দেশে ফিরে আসে। এরই মধ্যে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দূর করে সব নেতাকে একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসার কাজ শুরু করেছিল সে।

কারাগারে থাকা দুর্ধর্ষ সব জঙ্গিকে আদালতে আনা-নেয়ার পথে ছিনতাই করারও পরিকল্পনাও ছিল তার। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর্মীদের সংগঠিত করারও চেষ্টা করছিল সে। তার উদ্দেশ্য ছিল বড় ধরনের নাশকতা করে আবারও জেএমবির শক্তিশালী অবস্থান জানান দেয়া।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং বড় অঙ্কের অর্থের জোগানদাতা মামুনুর রশিদ রিপনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। সবুজবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় রোববার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

র‌্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা আমির শায়খ আবদুর রহমানের জামাতা আবদুল আওয়ালের ভাগ্নে হওয়ার কারণে সংগঠনে রিপনের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়া জেএমবির এক সময়ের প্রভাবশালী জঙ্গি নেতা উত্তরাঞ্চলের কথিত ডাক্তার নজরুল ইসলামের শিষ্যও সে।

গুলশান হামলার অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অর্থ সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গি হামলার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও ছিল তার কাঁধে। ভারত থেকে দেশে ফিরে সংগঠনের হাল ধরার চেষ্টা করছিল রিপন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান যুগান্তরকে বলেন, রিপন হলি আর্টিজান মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই হামলার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরকের জোগান দিয়েছিল। রিমান্ডে সে জেএমবি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

গুলশান হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সারা দেশে নব্য জেএমবির আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী, সারোয়ার জাহান, অপারেশনাল কমান্ডার নুরুল ইসলাম মারজান, সামরিক প্রশিক্ষক মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামসহ অন্তত ৮০ জন জঙ্গি নিহত হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছে নব্য জেএমবির কিলিং মাস্টার রাজীব গান্ধী, অস্ত্র সরবরাহকারী মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, দুর্ধর্র্ষ জঙ্গি হাতকাটা সোহেল মাহফুজসহ অনেক শীর্ষ জঙ্গি। ফলে নব্য জেএমবি এখন নেতৃত্বশূন্য।

তাছাড়া সংগঠনটি ভারত থেকে যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছিল এগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। ফলে এখন ভঙ্গুর এই সংগঠনের পক্ষে বড় ধরনের নাশকতা করার সক্ষমতা নেই। র‌্যাব সূত্র জানায়, গুলশান হামলার অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করতে রিপনের নেতৃত্বে একটি দল ভারত যায়। সেখান থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করে তারা সে দেশে ফিরে। হামলার পর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে সে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ