৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

কাদের বনাম ৪ হেভিওয়েট

আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের হেভিওয়েটদের সঙ্গে দুরত্ব তৈরি হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। ক্রমশই এই দুরত্ব প্রকাশ্য হচ্ছে। এবার নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় দলের সব হেভিওয়েটদের বাদ দেন প্রধানমন্ত্রী। কথা ছিলো, দলীয় কর্মকান্ডে তাঁদের গুরুত্ব বাড়ানো হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁরা যেন কথা বলেন, সে ব্যাপারেও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু কার্যত সিনিয়র নেতাদের কর্মহীন করে রাখা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের তার অনুগতদের দিয়েই দলের কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। বিএনপির বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিচ্ছেন একাই। ১৪ দল নিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে তার অবস্থানগত পার্থক্য স্পষ্ট।

আওয়ামী লীগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণ সম্পাদকের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট ৪ হেভিওয়েট। এরা হলেন, আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিম। এদের মধ্যে আমু এবং তোফায়েল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। নাসিম এবং সেলিম প্রেসিডিয়াম সদস্য। মোহাম্মদ নাসিম ১৪ দলের সমন্বয়ক। দলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তাঁদের মত বিরোধ প্রথম প্রকাশ্য হয় তিনদিন আগে। শহীদ মনসুর আলীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাসিম আমন্ত্রণ জানান ১৪ দলের নেতাদের এবং তোফায়েল আহমেদকে। সেখানে বক্তারা, ১৪ দলকে টিকিয়ে রাখার ঐতিহাসিক প্রয়োজনের উপর গুরত্ব আরোপ করেন। পরোক্ষভাবে সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ১৪ দল নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু অবস্থানের সমালোচনা করেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ১৪ দল একটি উপলক্ষ মাত্র। সিনিয়র নেতারা দলের সাধারণ সম্পাদকের আচরণে এবং কথাবার্তায় অপমানিত বোধ করছেন। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, সিনিয়র নেতারা আশা করেছিলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ নেবেন, পরামর্শ করবেন। দলীয় কার্যালয়ে আসার অনুরোধ করবেন। বিভিন্ন বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করতে সিনিয়র নেতাদের অনুরোধ করবেন। কিন্তু দলের সাধারণ সম্পাদক এসব কিছুই করেন নি।’ আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রগুলো বলছে, ‘সিনিয়র নেতাদের সাথে টেলিফোনে কুশল বিনিময়েও অনাগ্রহী ওবায়দুল কাদের। দলের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, ‘সবারই ভালো দিন থাকে, খারাপ দিন আসে। ভালো দিনে খারাপ সময়ের বন্ধুদের মনে রাখতে হয়। কিন্তু কাদের এখন তার খারাপ দিনগুলো ভুলে গেছেন।’ অন্য একজন নেতা বলেন, ‘আমরাই তো ওবায়দুল কাদেরকে নেতা বানাতে অবদান রেখেছি, এখন কাদের আমাদেরই অবসরে পাঠাতে চাইছেন।’

অবশ্য আওয়ামী লীগের কাদেরপন্থি নেতারা বলছেন, ‘আওয়ামী লীগের মূল শক্তি হলেন দলের সভাপতি। সব সিদ্ধান্ত তারই। সিনিয়রদের বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্তও তাঁর। এখানে ওবায়দুল কাদেরের করনীয় আসলে কিছুই নেই।’ কিন্তু এর জবাবে অনেকে বলছেন, ‘ওবায়দুল কাদের তো নিয়মিতই নেত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন। নিজের লোকজনের জন্য নেত্রীর কাছে তদ্বিরও করছেন। কিন্তু সিনিয়রদের জন্য মুখ খুলছেন না। ওবায়দুল কাদের দলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর দায়িত্বও বেশি। দলের বঞ্চিতদের খুশি করা। কর্মীদের চাঙ্গা রাখার দায়িত্ব তাঁর।’ সিনিয়র একজন নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি পরিবার। আর এই পরিবারের সবাইকে খুশি রাখার অন্যতম দায়িত্ব দলের সাধারণ সম্পাদকের।’ এ প্রসঙ্গে ঐ নেতা প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘২০০৮ সালে মন্ত্রিসভাতেও আমাদের রাখা হয়নি। তখন আশরাফ আমাদের ফোন করেছিলেন। আমাদের বাড়িতে এসে কথা বলে গিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জীবন সায়াহ্নে। এই বয়সে শুধু একটু সম্মান চাই। সেটাই কাদেরের কাছে আমরা চেয়েছিলাম। কিন্তু…’

সুত্রঃ বাংলা ইনসাইডার

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ