১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

বরিশালে মাস্তানি করতে গিয়ে জনরোষে তিন পুলিশ, অত:পর…

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশালের হিজলা উপজেলায় মাস্তানি করতে গিয়ে হাজার হাজার উত্তেজিত জনতার জনরোষের শিকার হলের এক উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্য। থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে থানার প্রায় সকল পুলিশ সদস্য গিয়ে উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ার পর পাশ্ববর্তী থানা থেকে সহকারী পুলিশ সুপার গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
গত শুক্রবার রাতে উপজেলার পুরাতন হিজলা বন্দরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে- স্থানীয় পুরাতন বন্দর সংলগ্ন মেঘনা নদীর পার থেকে পার্শ্ববর্তী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া বন্দরে খেয়া পারাপার করে আসছে হিজলার মো. সেলিম আকন নামে এক ব্যক্তি। ইজারার মাধ্যমে ওই খেয়া সর্ব্বোচ মূল্যে সেলিম আকন প্রাপ্ত হন। কিন্তু হঠাৎ গত শুক্রবার সকালে হিজলা উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার বড়জালিয়া সরকারী প্রাথসিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহীদুল ইসলাম রিপন ওই খেয়া দখলে নিতে একটি ট্রলার পাঠায় ঘাটে। এ নিয়ে সকালে ট্রলারের মাঝিদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় সেলিমকে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা রিপন মোবাইল ফোনে হুমকি দেন এবং তিনি খেয়াঘাট চালাবেন বলে জানান। বিষয়টি স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা জানতে পেরে ইজারাদার সেলিমকে সাহস জোগায়। অবস্থা অনুকূলে না থানায় রিপন গত ৪ বছর যাবত হিজলা থানায় চাকুরিরত এসআই সুজিত ও দুই কনস্টেবল নিয়োগ করে ইজারাদারকে আটক করতে। রাত ৮টার দিকে এসআই সুজিত তার সঙ্গীয় দুই কনস্টেবলসহ হাজির হয় খেয়াঘাটে এবং আটক করে ইজারদারকে হ্যান্ডকাপ পড়ানো হয়।

খবর পেয়ে হিজলা বন্দরে থাকা লোকজন পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে। এ সময় তাদেরকে উত্তেজিত জনতা বেদম মারধর করে এবং তাদের সাথে থাকা একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। এসময় সুজিতের সাথে আসা পুলিশের দুই কনস্টেবল পালিয়ে রক্ষা পায়। জনতা সুজিতকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান থানায় অবস্থান করা ১৫ থেকে ১৬ জন পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে সুজিতকে উদ্ধারে ব্যর্থ হন। পরে পাশ্ববর্তী মুলাদী থানার সহকারী পুলিশ সুপার কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল এবং স্থানীয় বড়জালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পন্ডিত সাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তার পরিষদের সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এসময় সহকারী পুলিশ সুপার অভিযুক্ত এসআই সুজিতকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে আশ্বস্ত করলে জনতা তাকে ছেড়ে দেয়। স্থানীয়রা জানান, গত চার বছর হিজলার এমন কোন ব্যক্তি নেই যাকে এসআই সুজিত বিনা কারণে হয়রানি না করেছেন।

বড়জালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পন্ডিত সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে তা খুবই অনাকাঙ্খিত।

হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান বরিশালটাইমসকে জানান, কোন ধরনের অভিযোগ ছাড়াই খেয়ার ইজারাদারকে আটক করা হয়েছিলো। তারপর বড় ধরনের অঘটন ঘটেনি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মুলাদী থানার সহকারী পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

হিজলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম রিপন বলেন- আমি ওই ঘটনার সাথে জড়িত নই। কেউ আমার নাম ব্যবহার করতে পারে।’

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ