৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

চট্টগ্রাম ডা. আকাশের আত্মহত্যা: মিতুর রিমান্ড শুনানি সোমবার

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে রিমান্ডে নেয়ার শুনানি হবে আগামীকাল সোমবার। চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত শুনানির এই দিন ধায করেছেন।

মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিন হেফাজতে নিতে শনিবার আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার এসআই আবদুল কাদের।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মো.শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, সোমবার মিতুর রিমান্ড শুনানি হবে।এদিন পূর্বনির্ধারিত জামিন আবেদনেরও শুনানি আছে। তবে আগে রিমান্ড হলে জামিন শুনানি আর হবে না। আর রিমান্ড নামঞ্জুর হলে তখন জামিন শুনানি হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর নন্দনকাননে খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে মিতুকে গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল কাদের বলেন, এরই মধ্যে আত্মহত্যাকারী ডা. আকাশ এবং তার স্ত্রী মিতুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ মোবাইল দুটিতে কি কি আছে এবং এখান থেকে কিছু মুছে দেয়া হয়েছে কিনা তা দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আকাশের আত্মহত্যার ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন মিতু। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করাসহ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, মিতু ভিনদেশি সংস্কৃতিকে মনে লালন করতেন।

বিয়ের আগে ও পরে একাধিক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানোসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন মিতু। তবে ঘটনার দিন পরকীয়াসহ নানা বিষয় নিয়ে মিতু ও আকাশের সঙ্গে বাসায় ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আকাশ তাকে মারধর করে বলে মিতু জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানান। এ কারণে ঘটনার দিন ভোরে মিতু আকাশের ঘর থেকে বের হয়ে বাবার বাসায় চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আকাশ নিজের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মিতু বাবার বাড়ি থেকে চলে যান নন্দনকাননে খালাতো ভাইয়ের বাসায়। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার পর দিনই আকাশের মা বাদী হয়ে মিতুসহ ছয়জনকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। আকাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকলের আবদুস সবুরের ছেলে। থাকতেন নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায়। মিতু নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার আনিসুল হক চৌধুরীর মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়।

মিতু ২০১৪ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন।

একাধিক পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর দিনের পর দিন পরকীয়া কুরে খাচ্ছিল ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে। যন্ত্রণা এতটা প্রকট হয়ে উঠেছিল যে, শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে পাপের পথ থেকে ফেরাতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তরুণ সম্ভাবনাময়ী এ চিকিৎসক।

নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকার ২ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাসা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ডা. আকাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগে চিকিৎসা কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার হন তার স্ত্রী তানজিলা হক মিতু।

শুক্রবার বিকালে মিতুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন আত্মহত্যাকারী চিকিৎসকের মা জমিরা খানম। মামলায় মিতু, তার বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, মা এবং আমেরিকা প্রবাসী এক বোন ও মিতুর দুই ছেলে বন্ধুকে আসামি করা হয়েছে।

মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে ডা. আকাশ নিজের ফেসবুকে স্ত্রীর উদ্দেশে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটিতে স্ত্রীর প্রতি তার অভিমান ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।

ডা. আকাশ স্ট্যাটাসে স্ত্রীর উদ্দেশে লেখেন- ‘ভালো থেকো, আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকাদের (প্রেমিকদের) নিয়ে।’

ডা. আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগরীর নন্দনকানন এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিতুকে গ্রেফতার করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বাশার বলেন- প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি, স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর সঙ্গে রাতে ঝগড়া করেন আকাশ। এর পর আকাশ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে একপর্যায়ে নিজের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে বিষপ্রয়োগ করেন।

আকাশের স্ত্রী মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান শুক্রবার জানান, আত্মহত্যার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ওই দম্পতির মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছিল। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিতু কিছু কিছু বিষয় পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। আবার কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছেন।

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক’ ও ‘প্রতারণার’ অভিযোগ করে যান। এর ‘প্রমাণ’ হিসেবে মিতুর সঙ্গে তার ‘বন্ধুদের’ বেশ কিছু ছবিও তিনি ফেসবুকে তুলে দিয়ে যান।

অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান আরও বলেন, বছর তিনেক আগে প্রেম করে বিয়ে করেন আকাশ ও মিতু। বিয়ের পর পরই মিতু যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তখন থেকেই বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

তিনি জানান, গত ১৩ জানুয়ারি মিতু দেশে আসার পর তা আরও বেড়ে যায়। বুধবার রাতে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতিও হয়।

সেদিন রাতেই মিতুর বাবা এসে আকাশদের বাসা থেকে মেয়েকে নিয়ে যান। ভোরের দিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেন আকাশ।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ