৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

খাবার লবণের আদলে বিষাক্ত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট’যাচ্ছে মানুষের পেটে

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

এস এম শামীমঃ ডাইং ফ্যাক্টরিতে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট’কে খাবার লবণ হিসেবে বাজারজাত করছে ঝালকাঠীর একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও কিছু অসাদু ব্যাবসায়ীরা। আমদানীকৃত শিল্প লবণকে সাধারণ খাবার লবণের সঙ্গে মিশ্রনের মাধ্যমে খাবার লবণ হিসেবে বাজারজাত করছে এরা ।

এতে করে সাধারণ মানুষ রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। ঝালকাঠী থেকে দক্ষিনঞ্চল সহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করা এসব লবণ না জেনেই বেশী ব্যবহার করছে ভোক্তারা

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে কক্সবাজারের কয়েক লাখ লবণ শ্রমিক আর ঝালকাঠী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা লবণ মিল ও মিলের শ্রমিকদের ওপর।

চিকিৎসকরা বলছেন, শিল্প লবণের কারণে মানবদেহে কিডনী ও লিভার ড্যামেজসহ নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ লবণকে মাদকের চেয়েও ক্ষতিকর বিষ বলে মন্তব্য করেছেন লবণ ব্যবসায়ীরা।

সুত্রে জানা যায়, চিটাগাংয়ের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিনই ৫ থেকে ১০টি ট্রাকভর্তি ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ঝালকাঠিতে আসছে। পরে ঝালকাঠীর বিভিন্ন কারখানায় ও গোডাউনে বস্তা খুলে বিভিন্ন খাবার লবণের ব্র্যান্ডের নামে ছোট ছোট প্যাকেটে ভরে ফেলা হয়। এসব লবণ দক্ষিনঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

লবণ ব্যবসায়িরা বলছেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ দেখতে রিফাইন করা খাবার লবণের মতোই সাদা। তাই এটি আমাদনী করার পরপর বস্তা খুলেই ছোট ছোট প্যাকেটে ভরে বাজারজাত করা যায়। রিফাইন করতে হয়না। ফলে রিফাইন করা বাবদ টাকা বেঁচে যায়। ফলে এটি খুচরা বাজারে খাবার লবণের চাইতে কেজি প্রতি দশ থেকে বারো টাকা কমে বিক্রি করা যায়। জানা গেছে, এই লবণ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। দেশি লবণ চাষ করার পর এটির রঙ থাকে লালচে।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্প লবণের আমদানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চাহিদার দ্বিগুণের বেশি আমদানি হওয়া শিল্প লবণ খোলাবাজারে ভোজ্য লবণ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারদর অপেক্ষা স্থানীয় বাজারে অপরিশোধিত লবণের মূল্য বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সোডিয়াম সালফেটের নামে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

ট্যারিফ কমিশন আরো বলছে, কস্টিক সোডার কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা সোডিয়াম সালফেট দেখতে খাওয়ার লবণের মতোই। অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণ সোডিয়াম সালফেট আমদানি করে তার সঙ্গে সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার ও গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা সোডিয়াম ক্লোরাইড মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করছে।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠী জেলার সহকারী পরিদর্ষক ও মান নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট বাজারে প্যাকেটজাত করে বিক্রির অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন যে, এই লবণটি মানব দেহের জন্য বিষ,এর মধ্যে আয়োডিন থাকেনা। এর মাধ্যমে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ