১৯শে মে, ২০১৯ ইং, রবিবার

অন্তঃসত্ত্বা ও শিশু কোলে নিয়ে আসা মায়েদের ভোটদানের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। দিল্লি দখলের লড়াইয়ে নেমেছে মোদি ও রাহুল গান্ধী।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে ঘাঁটি গাড়তে আদাজল খেয়ে নেমেছেন নরেন্দ্র মোদি।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃতীয় পর্বের প্রচারণা শুরু করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর নেতারা।

এদিকে ভোটদানে যেন কোনোরকম সমস্যায় না পড়তে হয়, সেদিকে বেশ নজর রেখেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

সে জন্য এবার অন্তঃসত্ত্বা ও শিশু কোলে নিয়ে আসা মায়েদের ভোটদানের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

তারা জানিয়েছেন, অন্তঃসত্ত্বা ও শিশু কোলে নিয়ে আসা নারীদের এবার ভোটের লাইনেই দাঁড়াতে হবে না।

উল্লেখ্য, ভোট দিতে এসে সাধারণত দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এসব নারীকে। ঝামেলা বাধলে কিংবা ইভিএম বিকল হলে লাইন বড় হতে থাকে। দীর্ঘলাইনে দাঁড়ানোর প্রতীক্ষায় বৃদ্ধা ও অন্তঃসত্ত্বাদের শারীরিক সমস্যা পোহাতে হয়।

প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ভোটে গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘামতে দেখা গেছে নারীদের। এ সময় ভোটকেন্দ্রে নারীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি প্রদেশে।

যে কারণে অন্তঃসত্ত্বারা ভোট দিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যম।

এসব বিচারে এবার অন্তঃসত্ত্বা ও শিশু কোলে নিয়ে আসা মায়েদের ভোটদানের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। তারা ভোটের লাইনে না দাঁড়িয়ে সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে একটি করে আলাদা কক্ষ। সেই কক্ষে বিশ্রাম নিতে পারবেন অন্তঃসত্ত্বারা। নারীদের বসার ব্যবস্থা, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসাব্যবস্থার সরঞ্জাম রাখা হবে ওই কক্ষে। এ ছাড়া ছোট বাচ্চাদের রাখার ব্যবস্থা হিসাবে দোলনা আর খেলনাও থাকবে সেখানে।

এসব ভোটারের জন্য অতিরিক্ত একজন পোলিং অফিসার দেয়া হবে। আরও রাখা হবে অতিরিক্ত কর্মী। যাদের কাছে কোলের শিশুকে রেখে নিশ্চিতে পাশের বুথে ভোট দিতে পারবেন নারীরা।

ভারতীয় গণমাধ্যমে নির্বাচন কমিশন থেকে এমন ব্যবস্থার কথা জেনে ইতিমধ্যে মহাখুশি নারী ভোটাররা।

এ বিষয়ে দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে বারাসত এলাকার এক স্কুলশিক্ষিকা জানালেন, ‘গরমে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অন্তঃসত্ত্বা ও বৃদ্ধারা হাঁপিয়ে ওঠেন। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই ভেবেছিলাম এবার আর ভোট দিতে গিয়ে নিজেকে ও অনাগত সন্তানকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলব না। ভোট দিতে যাব না ভেবেও মন খারাপ হচ্ছিল। কিন্তু এখন অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য সরকার যে ব্যবস্থা করল তা হলে অবশ্যই ভোট দিতে যাব।’

প্রসঙ্গত পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পাঁচটি সংসদীয় এলাকায় আগামী ৬ ও ১৯ মে দুই দফায় ভোট হবে। ভারতীয় গণমাধ্যমে দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই জেলায় ৮৪৬৮ ভোটকেন্দ্রে ৭৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯১ জন ভোট দেবেন। যাদের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৪১ জন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন