১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার

ঝালকাঠি জেলা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি ও ৫২ সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হুমায়ুণ কবির খানের অপকর্ম, ক্ষমতা অপব্যহার ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: মে ১৫, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি জেলা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ঝালকাঠি শহরে বাতাসাপট্টিতে অবস্থিত। যার রেজি: নং- ১৮৬৬।রেজিষ্টার অব ট্রেড ইউনিয়নের দপ্তর খুলনা হইতে এই ইউনিয়নটি নিবন্ধন প্রাপ্ত হয়। এই সংগঠনের একটি গঠনতন্ত্র আছে। গঠনতন্ত্রের বিধি বিধান-ধারা-উপধারা বলে সংগঠনটি পরিচালিত হয। ২০১৬-২০১৯ সালের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনের মো: হুমায়ূন কবির খান, ২০০৬ সালের শ্রম আইনের বিধি লংঘন করে গায়ের জোরে ক্ষমতা প্রয়োগ করে ঝালকাঠি জেলা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন।নির্বাচনে হওয়ার সাথে সাথে শ্রমিকদের মাসিক চাঁদা ২০ টাকার পরিবর্তে ৫০ ধার্য্য করেন। যারা গঠনতন্ত্রের বহিভুত। গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী সাধারন সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের নামে হিসাব খোলর বিধান থাকা সত্বেও কিন্তু সে নিজের নাম দিয়ে ৩ জনের নামে হিসাব খোলেন যাহা গঠনতন্ত্রের বহিভুত। তার এই সব কর্মকান্ডের কারনে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
হুমায়ূন কবির খান একজন প্রতারক, মিথ্যার আশ্রয় নেয়াই তার ধর্ম। তিনি এক সময় রে¯েতারা একজন শ্যমিক ছিলেন । আজ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। তিনি আজ কয়েক শত কোটির টাকার মালিক। তিনি আজ শ্রমিক না । তিনি একজন বাস মালিক। সে আজ ঝালকাঠি জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি যার রেজি: নং- ম৩৬১/(১৮)/৯৫ ওরেজি: নং- খুলনা ১৯২১ এর সদস্য যার সদস্য নং- ৮৪ । একজন বাস মালিক কি করে কোন গঠনতন্ত্রের বলে ঝালকাঠি জেলা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হলেন। তিনি ঝালকাঠি জেলা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে নিয়ম অনুযায়ী সদস্য পদ হারিয়েছেন। তিনি পৌর কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে গায়ের জোরে ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি হয়ে ২০১৮ সালে মে দিবস উপলক্ষে জারি গানের কথা বলে শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে সমূদয় টাকা ইউনিয়নের তহবিলে জমা না দিয়ে অর্থ আত্মসাত করে আজ প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
আমি এই সংগঠনের একজন পেশাদার শ্রমিক। হুমায়ূন কবির খান সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়ে ইউনিয়নের শ্রমিকদের কল্যানকর কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করে চলছেন। এমন কি ইউনিয়নের সকল নিয়ম নীতি লংঘন করে আমার সদস্য পদ বাতিল করে দেন। আমি তার সেই আদেশ এর বিরুদ্ধে উপ-পরিচালক,অঞ্চলিক শ্রমদপ্তরে অভিযোগ প্রদান করি। উপ-পরিচালন কথিত সভাপতির আদেশ বেআইনী ঘোষণা দিয়ে আমার সদস্য বহাল এবং আমার কাছে বকেয়া চাঁদা গ্রহনের আদেশ দেন। সেই আদেশ বলে তিনি আমার সদস্য পদ ফিরিয়ে দেন এবং চাঁদা গ্রহন করেন।
তিনি একজন মেসার্স হুমায়ূন ট্রেড এজেন্সী নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালিক নয় তিনি আজ জাহাজ ও কয়েকটি বাসের মালিক। আপনারাই বলুন একজন বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে মালিক কি করে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সদস্য হলেন। গঠনতন্ত্রে প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল প্রদর্শন করে গায়ের জোরে ঝালকাঠি জেলা হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে আর্থিক লাভবান হওয়ার জন্যই শ্রমিক ইউনিয়নে ঢুকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে বসেছেন। তাই আমি বাধ্য হয়ে শ্রম আদালতে তার সদস্য পদ বাতিল , তার কার্যক্রমের উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা রুজু করি।(যার নং -১৬/১৯,তারিখ: ৩০/০৪/২০১৯)। তবু আজ আপনাদের সামনেই হুমায়ুণ কবির খান উপ-পরিচালক আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর আমানতগঞ্জ, বরিশাল তার বিরুদ্ধে আনীতি অভিযোগ ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই নিজের গোপন কথা নিজেই ধরা দিয়েছেন। তিনি উক্ত দপ্তরে লিখিত অভিযোগের ব্যাখ্যায় উলে¬খ করেছেন যে, তিনি টাটা কোম্পানীর একটি গাড়ি লিজ নিয়েছেন। তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেণ। তিনি কয়েকটি গাড়ীর মালিক নামে -বেনামে রয়েছেন। ঝালকাঠি বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির গঠনতন্ত্রে উলে¬খ রয়েছে, গাড়ীর মালিক ছাড়া উক্ত প্রতিষ্ঠানে কেউই সদস্য পদ লাভ করতে পারবেন না। শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা সবই জানেন, হুমায়ুণ কবির খানের কর্মকান্ড সম্পর্কে আপনারদের অবগত করাতে চাই । অসহায় মানুষগুলো বাঁচতে চায়। কে এই হুমায়ূন কবির খান, পশ্চিম ঝালকাঠির একজন ত্রাস। মানুষ ভয়ে কথা বলতে পাচ্ছেন না। তিনি একজন সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসী লালন পালন কারী, ভূমিদস্যূ, ধর্ষনকারী কারী, জুলুমবাজ ও সন্ত্রাস সৃষ্ঠিকারী।সে একজন দূর্ধর্ষ ব্যক্তি তার কর্মকান্ডের মাত্র কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরতে চাই। (১) হত্যা সংক্রান্ত মামলা:- (১) জি,আর-২৭২/২০০৫ আমির হত্যা, (২) জি,আর- ১৫৫/২০১৭ জাহিদ হত্যা, (৩) জি,আর-৩০/৯৯ কুদ্দুস কমিশনারকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা, (৪) কিফাইতনগরের জালাল পঞ্চাইত গুম। (২) ধর্ষন সংক্রান্ত মামলা : – (১) জি,আর- ৬১/৯৮(হাফিজা ধর্ষণ), (২) জি,আর-৬৯/২০০৩ (শামীম আরা মীমা ধর্ষণ) (৩) জি, আর-৪৫২/২০০৩ (রেশমা ধর্ষণ) (৪) জি,আর- ৩৪/২০০৩(কলি ধর্ষণ) (৩) চাঁদাবাজি ও বাড়িঘর লুট মামলা সংক্রান্ত:- (১) জি আর-৩৭/২০০৬ (চাঁদাবাজি ও মারধর) , (২) জি, আর- ২৩৭/৯৯ (অস্ত্র শস্ত্রসহ আমজেদ এর বাড়ি লুট), (৩) জি,আর-০৫/২০০১ (অস্ত্র সহ আমি বাবুল আমার বাড়ী লুট), (৪) জি,আর- ৬৪/৯৫ (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ( ইঞ্জিনিয়ার আবদুল হাইকে মারধর করিয়া টাকা আদায়, (৫) জি,আর- ১১১/২০১৯ (নাসিম খলিফা কাছে চাঁদা দাবী ও বাড়ি ঘর ভাংচুর। এতো সব মামলা থাকার সত্বেও প্রশাসন নিরব। তাদের ম্যানেজ করে এবং ক্ষমতাশীন দলের নেতাদের মোটা অংক দিয়ে তাদের ছত্রছাত্রায় দল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ হয়ে যায়। বিএনপির আমলে ৫২ সদস্য বিশিষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনী ঘঠন করে।সেই বাহিনী নিয়েই বিএনপি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিয়ে অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পালবাড়ী ও পশ্চিম ঝালকাঠিসহ শহরের ি বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসে রাজ্য কায়েম করেছেন।আসলে তাদের পরিবারের সদস্যরা কেউই আওয়ামী লীগের লোক না। কারন তার পিতা রত্তন আলী খান ছিলো পাকিস্তানের দালাল। ১৯৭১ সালে ঝালকাঠি শহরে যে সমস্ত হিন্দুরা ঘর –বাড়ী ফেলেরেখে গিয়েছিলেনসেই নব বাড়ী র মালামাল লুট করে ছিলেন। তার জন্য তাকে ধরে নিয়ে মুক্তিবাহিনীরা হত্যা করে। শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক ভাইয়েরা , আরো অনেক ঘটনা রয়েছে, পশ্চিম ঝালকাঠি ও পালবাড়ীতে তার রয়েছে ৫২ সদস্যের এক সন্ত্রাসী বাহিনী। এই সন্ত্রাসী বাহিনী মাদক ব্যবসা, মাদকসেবী পরিনত হয়েছে। মাদকের বিশাল চালান আসে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতার নামে। সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে ভাগ হয়ে যায়। এক যূগ বসে বললেও শেষ করা যাবে না। একটি ক্লাবের নামে সরকারী জমি দখল করে সেখানে একটি অট্টলিকা নির্মান করেছে। সরকারী জমি দখলের বিরুদ্ধে আমি নিজে গত ২০/০২/২০১৯ ইং তারিখ জেলা প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ও ভূমি কর্মকর্তর বরাবর অভিযোগ দায়ের করি। কি রহস্যেরহে কারনে ভুমিদস্যূদের উৎসাহ যুগিয়েছেন। আপনারা জানেন, পশ্চিম ঝালকাঠি,বাসন্ডা, রামনগর, পারকিফাইতনগর, নেছারাবাদ, পালবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে জিম্মি । মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে ও প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেনা। আপনারাই পারেন এই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। উপরোক্ত এলাকার মানুষ বাঁচতে চায়। শ্রমিকরা বাঁচতে চায়। তাদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে করতেই হবে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমাদের পাশে আপনারাই একমাত্র ভরসা। প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, হুমায়ুন কবির খান কি ভাবে বিশাল অট্টলিকা, গাড়ী বাড়ীর মালিক হয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। তার দেখার দায়িত্ব কার? দুর্নীতি দমন কমিশনের। আঙ্গুল ফুটে কলা গাছ হয়েছেন। তার অন্যায় ও অবৈধ সম্পত্তির বিরুদ্ধে আমি গত ২৬/০৮/১৮ ইং তারিখ দূর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক, বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দেই।কিন্তু সেই কর্র্মকর্তারা তার অবৈধ টাকার কাছে নিশ্চুপ। আপনারাই জানেন , এই সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে মানুষ চোখ বুঝে আছেন। আপনাদের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করে আমার ডাকা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন। আপনাদেকে অসহায় দু:খী মানুষ ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ধণ্যবাদ জানাচ্ছি। আমার এই সংবাদ সম্মেলনের জন্য আমাকে ও জাহিদ এর মতো পরিনতি হতে পারে। আমি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রতিবাদ করবো।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন