১৮ই জুন, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার

দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসিরকে সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট: জুন ১১, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়া পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এনামুল বাসিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, রোববার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কমিশনের সচিব মো. দিলওয়ার বখতকে। অন্য সদস্যরা হলেন মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মো. মফিজুর রহমান ভূঞা এবং মহাপরিচালক (প্রশাসন) সাঈদ মাহবুব খান। সোমবার বিকালে এই কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদনে কী আছে সে তথ্য প্রকাশ করেননি দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ডিআইজি মিজানুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত থেকে এনামুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাছে এনামুল বলেছেন, তিনি ঘুষ নেননি। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এনামুল বাসিরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটি অসদাচরণ। এতে দুদক বিব্রত নয়। কোনো ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠানের নয়। দুদকের ৮৭৪ জন কর্মীর সততার নিশ্চয়তা কমিশন দিতে পারে না। এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এনামুল বাসিরের সঙ্গে ডিআইজি মিজানুর রহমানের কথোপকথন নিশ্চিত হতে অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা করতে হবে। তা ছাড়া মিজানুর ঘুষ দিয়েছেন প্রমাণিত হলে দুদক মামলা করবে বলে জানান তিনি। ডিআইজি মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করেছিল দুদক। কিন্তু এই তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মিজানুর রহমান। মাস ছয়েক ধরে দু’জনের মধ্যে এ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমে ২৫ লাখ ও পরে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন মিজানুর। কিন্তু ২ জুন খন্দকার এনামুল বাসির মিজানুরকে জানান, তিনি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তবে দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারের চাপে তাকে অব্যাহতি দিতে পারেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিজানুর টাকা-পয়সা লেনদেনের সব কথা ফাঁস করে দেন। প্রমাণ হিসেবে হাজির করেন এনামুল বাসিরের সঙ্গে কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ড। এ বিষয়ে রোববার প্রতিবেদন প্রচার করে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন নিউজ। এনামুল বাসির অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রোববার তিনি বলেছেন, অডিও রেকর্ডটি বানোয়াট। তিনি টাকা-পয়সা নেননি। তিনি গত মাসের শেষ দিকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং মিজানুরের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করেছেন। মিজানুর রহমান বলেছেন, তিনি খন্দকার এনামুল বাসিরকে একটা স্যামসাং ফোন কিনে দিয়েছিলেন শুধু তার সঙ্গে কথা পৃষ্ঠা ২ কলাম ৪ বলার জন্য। তার গাড়িচালক হৃদয়ের নামে সিমটি তোলা। এতে দু’জনের কথা ও খুদে বার্তা বিনিময় হয়েছে। ডিআইজি মিজানুর ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তখন তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। মিজানুরের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে মিজানুরকে দুদক কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মিজানুর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। মিজানুরের নামে ৪৬ লাখ ৩২ হাজার ১৯১ এবং স্ত্রীর নামে ৭২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫২ টাকার অসংগতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা দুদকের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তদন্ত শুরু হওয়ার এক বছরের মাথায় দুদক পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার এই অভিযোগ পাওয়া গেল।

কাজটি করেছি তাকে ফাঁসাতে, নিজেকে বাঁচাতে: ডিআইজি মিজান

দুদক কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাছিরের ‘চাপের পর’ তাকে ‘ফাঁদে ফেলতে’ অপরাধ জেনেও ঘুষ লেনদেনের কাজটি করেছেন বলে দাবি করেছেন পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান।

যে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দেয়ার দাবি তিনি করেছেন, তার হিসাবও দুদককে দেয়ার জন্য তৈরি আছেন বলে জানান তিনি।

ডিআইজি মিজান দাবি করেছেন, ঘুষ দেয়া যে অপরাধ তা জেনেই তিনি কাজটি করেছেন ‘বাধ্য হয়ে’।

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে টাকা দিতে চাইনি। কিন্তু তিনি যেভাবে প্রেসার দিচ্ছিলেন, বাধ্য হয়ে তাকে ধরতে ফাঁদে ফেলতে এই কাজটি করতে হয়েছে।’

‘এটা আমি বুঝেশুনে করেছি, তাকে ফাঁসানোর জন্য করেছি এবং নিজের সেইফটির জন্য করেছি।’

তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের কোনো প্রমাণ না পাওয়ার পরও দুদক কর্মকর্তা বাছির চাপ দিচ্ছিলেন বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

‘ফাইলে কিছু নাই বলার পরও সে বারবার প্রেসার দিচ্ছিল টাকা দেয়ার জন্য। তার সঙ্গে তার অফিসে বেশ কয়েকবার দেখা করেছি। তার চাহিদা অনুযায়ী চাকরি জীবনের সব কাগজ দেয়ার পরেও তিনি টাকার জন্য প্রেসার দিচ্ছিলেন।’

বাছিরকে ‘ফাঁদে ফেলার’ কাজটি করার আগে দুদকে অভিযোগ দিয়েছিলেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি জানিয়েছিলেন, কিন্তু সাড়া পাননি।

‘যখন দেখা গেল, উনি (বাছির) কোনো কিছুতে মানেন না, তখন দুদকের পরিচালক… সাহেবকে মেসেজ দিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে চেয়েছি। তার সঙ্গে দেখা হলে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করতে চাওয়া হতো। কিন্তু তিনি মেসেজের কোনো প্রতিউত্তর দেননি। তার সঙ্গে দেখা হলে বিস্তারিত বলতাম।’

‘ঘুষ হিসেবে দেয়া’ ৪০ লাখ টাকার উৎস জানতে চাইলে ডিআইজি মিজান বলেন, ‘এ টাকা আমি কোথায় পেয়েছি, কীভাবে পেয়েছি, তার জবাব আমি যথাযথভাবে দুদককে দেব।’

তার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স ফাইলের বাইরে কোনো সম্পদ পেলে দুদক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে কোনো আপত্তি থাকবে না। দুদকের কাছে আমি ইলিগ্যাল কোনো হেল্প চাচ্ছি না।’

এক ভাগ্নের ব্যাংক হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা গচ্ছিত রাখার অভিযোগের বিষয়ে ডিআইজি মিজান বলেন, ‘সে একজন ব্যবসায়ী। তার ট্যাক্স ফাইল আছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন