১৮ই জুন, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার

বরিশাল কলেজ ছাত্রী মিলিকে হত্যা করেছে শিক্ষক পুনিল!

আপডেট: জুন ১২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রী মিলি ইসলামকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মিলি ইসলামের মা পারভিন খানম। একই সাথে বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের গনিত বিভাগের শিক্ষক পুনিল চন্দ্র সরকার নিজেই মিলিকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

চলতি বছরের ৩রা মে বরিশাল নগরের ২৮ নং ওয়ার্ডের ফিসারী রোডের আলী আজিমের ভাড়া বাসা থেকে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম)কলেজের ছাত্রী মিলি ইসলামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মিলি ইসলাম বিএম কলেজের মাস্টার্স (হিসাব বিজ্ঞান) বিভাগের পরীক্ষার্থী ছিলো।

মিলি ইসলামের হত্যার বিচার ও হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মিলি’র মা পারভিন খানম। আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার মেয়ে বিএম কলেজের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। সে নিজে থেকে কোন দিনও আত্মহত্যা করতে পারেনা। তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

মিলির মা পারভিন বেগম এয়ারপোর্ট থানার ওসি’র কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন মিলি যদি নিজ থেকে আত্বহত্যা করবে তাহলে একদিন পূর্বে সে কেন নতুন বাসা ভাড়া নেবে।

মিলির আত্বহত্যার করার জন্য মিলির মায়ের অনেক জায়গা রয়েছে। এমনকি পুলিনের সঙ্গে সংসার করবে বলেই সে রাতে ঘড়ে ফ্যান লাগানো সহ সাজ সজ্জা করেন কি আত্বহত্যা করার জন্য।

অন্যদিকে মিলি আত্বহত্যা করবে বলে তার নিজের মোবাইল ফোন বালতির পানির ভিতর ভিজিয়ে রাখবে সে সাথে ঘড়ের দড়জা রাখবে খুলে।

এমনকি মিলি হত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য এয়ারপোর্ট থানা ওসি থানায় আমাদের দায়ের করা হত্যা মামলা গ্রহণ করেননি।

মডেল স্কুল এন্ড কলেজের গনিত বিভাগের শিক্ষক পুনিল চন্দ্র সরকারের সাথে আমার মেয়ের দির্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। পুনিল হিন্দু সম্প্রদায়ের হয়েও সে নিজেকে আমার মেয়ের কাছে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেয়। এমনকি আমার মেয়ে মিলি ইসলামকে বিয়ে করবে বলে আসস্ত করে। হত্যাকান্ডের ২মাস পূর্বে আমরা পুরো বিষয়টি জানতে পারি। পুনিল একদিন আমাদের নথুল্লাবাদের বাসায় গিয়ে মিলি ও আমাদের হুমকী দেয়। সে মিলিকে বিয়ে করতে পারবেনা বলে জানায়। পুনিল বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে বলে এখন বিয়ে করা সম্ভব নয়। বিষয়টি মিলি পুনিলের স্কুল অধ্যক্ষ ও বাসায় জানিয়ে দেবে বলে হুশিয়ারী দিলে পুনিল তাবে বাঁধা দেয়। অভিযোগ করার জন্য মিলি দু দিন স্কুলে গেয়ে আবার ফিরে আসে। পরে আবার পুনিল মিলিকে কারো কাছে না বলার জন্য পরামর্শ দেয় এবং সে তাকে খুত শিঘ্রই বিয়ে করবে বলে জানান।

তিনি আরো জানান, ঘটনার আগের দিন মিলি ইসলাম ফিসারী রোডের ওই বাসা সে ও তার স্বামী থাকবে বলে ভাড়া নেয়। রাতে পুনিল বাসায়ও আসে বলে জানায় বাড়ীর মালিকের স্ত্রী শিউলী আজিম। আত্মহত্যার খবর পেয়ে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা পায়। এসময় মিলির ফোন একটি পানি ভর্তি পাতিলের মধ্যে ডুবানো ছিলো। আর মিলি গলায় ওড়না দিয়ে ফ্যনের সাথে ঝোলানো ছিলো তবে তার পা মাটিতেই ছিলো। এঘটনায় পুলিশ বরগুনা জেলার সদর থানাধিন ২নং গৌরীচন্ন এলাকা থেকে পুনিলকে গ্রেপ্তার করে।

তবে পুলিশ পুনিলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহন করে হত্যা বা আত্বহত্যা প্রচারনা মামলায় না এনে তাকে শুধু ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালকে প্রেরন করে। উক্ত মামলায় পুনিল চন্দ্র সরকার গত ৯ জুন আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পায়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তেব্যে পারভিন খানম বলেন, আমার মেয়েকে পুনিল ব্যবহার করেছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই হত্যার ঘটনার সুষ্ঠ বিচার ও অভিযুক্ত পুনিল এর গ্রেপ্তার দাবি করছি। তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। ইতিমধ্যে পুনিল সরকার জামিনে মুক্তি পেয়ে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে আমাদের হুমকী প্রদান করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আরো একটি হত্যা কান্ড হবে বলেও তারা হুশিয়ারী দেন।

এদিকে , বিএম কলেজ ছাত্রী মিলি হত্যার ঘটনায় তার মা পারভান খানম বাদী হয়ে পুনিল চন্দ্র সরকারসহ অজ্ঞাত নামা আরো কয়েকজনকে আসামী করে বরিশাল মোকাম বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নম্বর ৬৪/১৯। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পিআইবিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন