২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং, সোমবার

কাউখালীর আইরন স্কুলের সভাপতি প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দে শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন বোনস থেকে বঞ্চিত

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের কাউখালীর আইরণ জয়কুল এম.এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দে সকল শিক্ষক কর্মচারীর জুলাই মাসের বেতন ও ঈদ উল আযহার বোনাস থেকে বঞ্চিহ হয়েছে।
আয়রণ জয়কুল এম.এম মাধ্যমিক বিদ্যাল পূর্বের পরিচালনা কমিটির সভাপতির মৃত্যু হলে গত ৬ জুন ২০১৮খ্রি. তারিখে সকল সদ্যসদের সর্বসন্মতিক্রমে কহিনূর বেগম কে নতুন কমিটির সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন। উক্ত কমিটি বোর্ড থেকেও অনুমোদন দেওয়া হয়। উক্ত কমিটির অবৈধ বলে প্রধান শিক্ষক নান্না মিয়া ১২ জুন ২০১৮ খ্রি. তারিখে শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করেন। এর পরে সভাপতি কহিনূর বেগম ৪ নভেম্বর ২০১৮খ্রি. তারিখ সভাপতি পদ বহাল রাখার জন্য হাইকোর্টে একটি রিট দাখিল করেন। হাইকোর্ট কোহিনূর বেগমকে ৬ মাসের জন্য সভাপতি পদের দায়িত্ব পালনের জন্য অনুমতি প্রদান করেন। উক্ত মেয়াদ শেষ হলে হাইকোর্ট পুনঃরায় ২৩ জুন ২০১৯ খ্রি. তাকে সভাপতি পদে বহাল রাখেন এবং ১৭ জুলাই ২০১৯খ্রি. তারিখ বরিশাল শিক্ষাবোর্ডও তাকে সভাপতি হিসাবে বহাল রাখেন। এর মাঝের দেড় মাসের জন্য সভাপতি হিসাবে শিক্ষক কর্মচারীদের জুন মাসের বেতন বিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিস্বাক্ষর করেন। প্রধান শিক্ষক পুণঃরায় জুলাই মাসে বেতন বোনাস বিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর আনতে গেলে তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর নিতে বলেন। প্রধান শিক্ষক বেতন বোনাসের বিলে সভাপতির স্বাক্ষর না নেওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন বোনাস থেকে বঞ্চিত হন। স্কুলের সকল শিক্ষক কর্মচারীরা প্রধান শিক্ষককে তাদের বেতন বোনসে জন্য চাপ দিলে তিনি তার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বোনাসের টাকা দিয়ে দেন। জানাযায় প্রধান শিক্ষককে সভাপতি ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রি. তারিখ সাময়িক বরখাস্ত করেন । বে-সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরী বিধিমালায় কেউ বরখাস্ত হলে বেতনের অর্ধেক উত্তোলন করতে পারবেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার বেতনের সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি কহিনূর বেগম দৈনিক শিক্ষাক ডট কমকে বলেন, ‘‘প্রধান শিক্ষক বেতন বোনাসের বিলে আমার স্বাক্ষর নিতে আমার কাছে আসেন নি। আমি তাকে বেতন বিলে স্বাক্ষরের জন্য নিয়ে আসাতে বলেছিলাম, কিন্তু তিনি আসেন নি”। প্রধান শিক্ষক নান্না মিয় দৈনিক শিক্ষা ডট কমকে জানান, “পরিচালনা কমিটির সভাপতির সন্তান অসুস্থ থাকায় তিনি সভাপতির স্বাক্ষর নিতে পারেননি”। প্রধান শিক্ষকের বরখাস্তের বিষয়ে বলেন, তাকে যখন বরখাস্ত করা হয় তখন সভাপতির পদটি বৈধ ছিলনা। তাই তার বরখাস্তের বৈধতাও নেই বিধায় তিনি তার বেতনের পুণঃটাকা উত্তোলন করছেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন