২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং, শুক্রবার

শিরোনাম
*ভোলা জেলা পুলিশ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২০ এর শুভ উদ্বোধন * জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি পূর্ণগঠন  রিফাত শরীফ হত্যা, দশ আসামির ভাগ্য নির্ধারণ ৩০ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারে ভ্রাম্যমাণ এক্স-রে ভ্যান চালু। অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় বিনিয়োগ করবে জাপান, এ বিনিয়োগ এশিয়ার মধ্যে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ হবে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে দেশেই । ইউএনওদের নিরাপত্তায় তাদের বাসভবনে নিয়োগ হচ্ছে আনসার – জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে ইউএনও’র বাসভবনে হামলায় আহত ইউএনও’র “অবস্থা গুরতর” উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছে ঢাকায় । মুরগি ছড়াচ্ছে ‘সালমোনেলা’ ভাইরাস : মৃত এক, আক্রান্ত ৪৫৪

বাড়ির থেকে ১০ টাকা এনে দিচ্ছি, হুজুর আর মারেন না

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

‘বাড়ির থেকে ১০ টাকা এনে দিচ্ছি, হুজুর আর মারেন না’ এমন আকুতির পরও ১০ বছর বয়সের মাদরাসাছাত্র রমজান মোল্যা রক্ষা পায়নি শিক্ষক ইমামুল হকের পিটুনির হাত থেকে।

নির্মম এ নির্যাতনের ঘটনা মঙ্গলবার বিকালে যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের খানজাহান আলী নূরানী হাফেজি মাদ্রাসায় ঘটে। আহত রমজান মোল্যা বাশুয়াড়ী গ্রামের ভ্যানচালক মো. আজানুর মোল্যার ছেলে। অসুস্থ রমজানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষক ইমামুল হক পলাতক রয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষক কালের কণ্ঠকে জানান, বর্তমানে মাদ্রাসায় মোট শিক্ষার্থী ২৮ জন। লেখাপড়া না করিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে গ্রামে চাল ও টাকা কালেকশন করানো হয়। মঙ্গলবার দিনভর কালেকশনের পর ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত রমজান মোল্যা কালেকশনের থেকে মাত্র ১০ টাকা খরচ করে। বিষয়টি শিক্ষক ইমামুল হক জানতে পেরে শিশুটিকে বেধড়ক পিটিয়ে মাদ্রাসার এক কক্ষে আটকে রাখেন। এটা অমানবিক। বিচার হওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন শিশু রমজান মোল্যা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমিসহ মাদ্রাসার তিনজন ছাত্রকে ইমামুল হুজুর পাশের গ্রামে চাল ও টাকা কালেকশন করতে পাঠান। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কালেকশন করে ক্ষুধা লাগলে ১০ টাকার খাবার কিনে খাই। এজন্যে হুজুর আমাকে দাঁতন গাছ দিয়ে পেটাতে শুরু করেন। হুজুরের পা ধরে ক্ষমা চেয়ে বলেছিলাম, ‘বাড়ির থেকে ১০ টাকা এনে দিচ্ছি, হুজুর আমারে আর মারেন না’ তারপরও হুজুর মারতে থাকেন এবং বলেন তোর শরীরের যেখানে মারছি তা কাউকে দেখাতে তুই লজ্জা পাবি।

আহত রমজানের পিতা ভ্যানচালক আজানুর মোল্যা বলেন, প্রতিমাসে ছেলের বেতন বাবদ ১২০ টাকা ইমামুল হুজুরের হাতে দিতে হয়। হুজুর বাড়ির সব কাজ মাদ্রাসার ছাত্রদের দিয়ে করান। আমার ছেলে হুজুরের কালেকশনের টাকা দিয়ে খাবার খাইছে। নিষ্ঠুরভাবে না মেরে আমাকে বললে আমি টাকা দিয়ে দিতাম। আমি নির্যাতনকারী হুজুরের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম মাহামুদুর রহমান রিজভী বলেন, মাদ্রাসাছাত্র রমজান মোল্যার কোমর ও নিতম্ব থেকে দুই পায়ে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। ওই স্থানে একাধিক ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে খানজাহান আলী নূরানী হাফেজী মাদ্রাসার অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ ইমামুল হকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিক বার চেষ্টা করেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। মাদ্রাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, মাদ্রাসাছাত্রকে মারপিটের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। শুনেছি ছাত্রটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ