১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার

শিরোনাম
চ্যানেল ৩৬৫ এর পক্ষ থেকে ফরচুন সুজ লিঃ চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা র‌্যাব-১১’র অভিযানে না’গঞ্জে ৪ পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রেফতার গণভবনে যাবেন না যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্ভবত : হারুনুর রশীদ কুড়িগ্রামে ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ মঠবাড়িয়ায় স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় যুবকের কারাদন্ড (বায়োমেট্রিক হাজিরা জালিয়াতির অভিনব কৌশল) একইসাথে দুই হাসপাতালে চাকরি করছেন ড. রমিজ কুড়িগ্রামে গ্রামীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিয়ের গীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত স্বরূপকাঠিতে ১৭ তম গ্রেডিং পদ্ধতির প্রতিবাদে এফ ডব্লিউ এ কর্মচারীদের মানববন্ধন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে সাবেক ছিটমহলের ৬০ তরুণ-তরুণী পেল আইটি সাপোর্ট টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ সনদ

কাশ্মীরের ‘অতীত গৌরব’ পুনরুদ্ধার করা হবে

আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ভারতের ৭৩তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল দিল্লির লালকেল্লায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : এএফপি

অ- অ অ+
কাশ্মীরের ‘অতীত গৌরব’ ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লির লাল কেল্লায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের ৭০তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি বলেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত কাশ্মীরের ‘অতীত গৌরব’ ফিরিয়ে আনবে। মোদি এ সময় ভারতে ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ’ নামে একটি নতুন সামরিক পদ সৃষ্টিরও ঘোষণা দিয়েছেন। সেনা, নৌ ও বিমান—এই তিন বাহিনীর প্রধান হবেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বা সিডিএস। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো এটিকে ‘বিশাল ঘোষণা’ (মেগা অ্যানাউন্সমেন্ট) বলে অভিহিত করেছে।

দেড় ঘণ্টার ভাষণে মোদি বলেন, ভারতের উন্নয়নে কাশ্মীর এখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে রাখলেও এত দিন তা শুধুই দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছিল। তবে তাঁর ভাষণে তিনি কাশ্মীরের সড়ক ও টেলিফোন যোগাযোগে অচলাবস্থা নিয়ে কিছু বলেননি।

ভাষণে মোদি কাশ্মীরের ‘অতীত গৌরব’ ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করলেও সেটা কী ধরনের হবে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। বিশেষ করে, ৩৭০ অনুচ্ছেদ ও ৩৫ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীরের জনগণ ভয় পাচ্ছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী মোদি সরকার কাশ্মীরে ভারতের অন্য অঞ্চলের লোকদের এনে জনসংখ্যার অনুপাতে পরিবর্তন আনতে পারে। ৩৫ ধারা অনুযায়ী, এত দিন কাশ্মীরের বাইরের কেউ জমি ক্রয় ও স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারত না। তবে বিজেপি সরকার এ কথা অস্বীকার করলেও মোদির ভাষণে এর কোনো উল্লেখ ছিল না।

বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, ৭০ বছরে যা হয়নি, ৭০ দিনেই সেই কাজ করেছে দ্বিতীয় মোদি সরকার। দ্বিতীয়বার সরকারে আসার পরই ৩৭০ অনুচ্ছেদ এবং ৩৫এ ধারা বিলোপের বিল ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাস হয়েছে। এর অর্থ, সবার মনেই এটা ছিল, সবাই চাইছিলেন। কিন্তু শুরু কে করবে, সেটাই ঠিক হয়নি। জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলও আমরা পাস করেছি।

তিন বাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ’ : ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ’ নামে একটি নতুন সামরিক পদ সৃষ্টির ব্যাপারে মোদি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ভারতের গর্ব। তিন বাহিনীর সমন্বয়কে আরো তরান্বিত করার লক্ষ্যে আমি এই লালকেল্লা থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানাতে চাই। ভারত এবার একজন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ পেতে চলেছে। এই সিদ্ধান্ত বাহিনীগুলো আরো বেশি কার্যকর করবে।’

প্রসঙ্গত, ২০ বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে কারগিল যুদ্ধের পর এই পদ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা প্রথম অনুভূত হয়েছিল ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে। সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি এক প্রস্তাবে বলেছিল, সিডিএস তিন বাহিনীর হয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। তিনিই হবেন প্রধান সামরিক উপদেষ্টা। প্রস্তাবটির বাস্তবায়নে আগ্রহী ছিলেন তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানিও। অবশেষে ২০ বছর এই ঘোষণ দিতে ৭০তম স্বাধীনতা দিবসকে বেছে নিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, চার তারকা জেনারেল পদমর্যাদার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চিফ অব ডিফেন্স স্টাফের দায়িত্ব পাবেন। তিনটি বিভাগের ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হবে তাঁকে। এর ফলে তিনটি বিভাগের ঐক্য আরো জোরালো হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান বেদপ্রকাশ মালিক। কারগিল যুদ্ধের সময় তিনিই ছিলেন ভারতের সেনাপ্রধান।

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি ভারতীয় গণমাধ্যমের ভাষায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছেন, বৃষ্টি কম হওয়ায় বহু অঞ্চলের মানুষ পানীয় জলের অভাবে ভোগায় তাঁর সরকার একটি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যাতে প্রতিটি ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। এ লক্ষ্যে সাড়ে তিন লাখ কোটির বেশি রুপির ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ভাষণে তিনি জন্ম নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ছোট পরিবারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখাও এক প্রকার দেশপ্রেম। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, ইন্ডিয়া টুডে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন