১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার

শিরোনাম
বগুড়ায় ১৪৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে আশা কৃর্তৃক বৃত্তি প্রদান করেছে পিরোজপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপন দাবি চ্যানেল ৩৬৫ এর পক্ষ থেকে ফরচুন সুজ লিঃ চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা র‌্যাব-১১’র অভিযানে না’গঞ্জে ৪ পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রেফতার গণভবনে যাবেন না যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্ভবত : হারুনুর রশীদ কুড়িগ্রামে ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ মঠবাড়িয়ায় স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় যুবকের কারাদন্ড (বায়োমেট্রিক হাজিরা জালিয়াতির অভিনব কৌশল) একইসাথে দুই হাসপাতালে চাকরি করছেন ড. রমিজ কুড়িগ্রামে গ্রামীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিয়ের গীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১৯২৯ ডেঙ্গু নিয়ে পেরেশান চিকিৎসক-নার্সরা

আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রোগীর সেবায় বিরামহীনভাবে কাজ করছেন চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু এতদিনে পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। এখনো দিনে ২০০০-এর মতো রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। কবে নাগাদ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। এমন অবস্থায় বিরামহীন চিকিৎসা দিতে গিয়ে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত চিকিৎসক-নার্সরা। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও একই অবস্থা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্থান না পেয়ে অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে ভিড় করছেন।
হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত মে মাসে কম থাকলে জুন, জুলাই মাসে তা ব্যাপকহারে বেড়ে যায়। এতে হিমশিম খেতে থাকেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এবার অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ঈদের ছুটিতেও কমপক্ষে ১০ হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে অবস্থান করেছেন। শুধু তাই নয়, ঈদের ছুটিতেও প্রতিদিনই গড়ে দুই হাজার রোগী ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। আরও জরুরি বিভাগ দিয়ে হাজার হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রতিদিন। ফলে এবার ঈদুল আজহার সময় অধিকাংশ চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে তারা অন্যদের মতো ঈদের ছুটি ভোগ করতে পারেননি এবার। বরং রাত-দিনই হাসপাতালে রোগীকে সেবা দিয়ে গেছেন। হাসিুমুখেই রোগীদের সেবায় নিজদের নিয়োজিত রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ঈদের ছুটি ভোগ করতে পারেননি ডেঙ্গু জ্বরে সমস্যার কারণে। এবারের ডেঙ্গুতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে চিকিৎসক, নার্সরাও আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত কমপক্ষে নয়জন চিকিৎসক মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এদিকে গত ১৫ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার রোগী।

আর সরকারি হিসাবে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৮ হাজার ২৮০ জন। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা কয়েকগুণ। অন্যদিকে প্রতিদিনই আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মারা যাচ্ছে ডেঙ্গু রোগী। গতকালও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী ও শিশু হাসপাতালে এক শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ৪০ ষোষণা করলেও বেসরকারি হিসাবে তিনগুণের বেশি হবে বলে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র বলছে। অন্যদিকে রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৯২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। মোট ভর্তি রোগীর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৮১১ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ১১৮ জন ভর্তি হন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার বাইরেই বেশিসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গত এক সপ্তাহে দেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগে ভর্তিকৃত রোগীদের সংখ্যা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সাতদিনে ভর্তিকৃত ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ৮ই আগস্ট ২ হাজার ৩২৬, ৯ই আগস্ট ২ হাজার ২, ১০ই আগস্ট ২ হাজার ১৭৬, ১১ই আগস্ট ২ হাজার ৩৩৪, ১২ই আগস্ট ২ হাজার ৯৩, ১৩ই আগস্ট ১ হাজার ২০০ জন, ১৪ই আগস্ট ১ হাজার ৮৮০ জন এবং গতকাল ১ হাজার ৯২৯ জন।

চলতি আগস্ট মাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ৮১৯ জন। এই সংখ্যা গত জুলাই মাসে ছিল ১৬ হাজার ২৫৩ জন। জুনে ছিল এক হাজার ৮৮৪ জন, মে মাসে ১৯৩ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, মার্চে ১৭ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৮ জন এবং জানুয়ারিতে ৩৮ জন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারাদেশের হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী ৭ হাজার ৫৭০ জন, যার মধ্যে ঢাকায় ৩ হাজার ৯১০ এবং ঢাকার বাইরে ৩ হাজার ৬৬০ জন। গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালগুলো থেকে ৪০ হাজার ৬৭০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মোট ৪৮ হাজার ২৮০ জন। সরকারি হিসেবে মৃতের পরিসংখ্যানে দেখা যায, আগস্টে ১০ জন, জুলাইতে ২৪ জন, জুনে ৪ জন, এপ্রিলে ২ জন। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকা শিশু হাসপাতালে। তার নাম রাজ চৌধুরী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুরে তার মৃত্যু হয়। রাজের বয়স ছিল মাত্র দুই বছর দশ মাস। সে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. নির্মল কান্তি চৌধুরীর ছেলে। শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহীন শরীফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিেক ডেঙ্গুতে গতকাল সকাল ১১টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৌসুমী আক্তার (২৫) নামে আরেক নারীর মৃত্যু হয়। মৌসুমী বেশ কিছু দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। গত বুধবার মহাখালির বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা আরও খারাপ হলে গতকাল সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ঢামেক জরুরি বিভাগের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন