১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার

গৌরনদীতে বাজারে ঢুকে ফিল্মি স্টাইলে হামলা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

জুয়ার আসামী ধরাকে কেন্দ্র করে ফিল্মি স্টাইলে বাজারে ঢুকে নিরীহ যুবকসহ বাজার ব্যবসায়ীদের কমপক্ষে ১০ জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত একজনকে শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার গৌরনদী উপজেলার বিল্বগ্রাম বাজারে।

বাজারের মধ্যে ঢুকে হামলার প্রতিবাদে এক ঘন্টা দোকানপাট বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। তাৎক্ষনিক খবরপেয়ে গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিচারের আশ্বাস দেওয়ায় বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে ভুক্তভোগি ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নরসিংহলপট্টি এলাকা থেকে আট জুয়ারিকে আটক করে পুলিশ। জুয়ারিদের আটকের বিষয়ে গৌরনদী সরকারী কলেজের সাবেক জিএস জাহিদুল ইসলাম ও স্থানীয় আরিফ সরদারের হাত রয়েছে এমন অভিযোগে জুয়ারিদের স্বজনদের সাথে জাহিদুল ইসলাম ও আরিফ সরদারের সাথে বাগবিতন্ডা হয়। এঘটনার সূত্রধরে সন্ধ্যায় সাবেক জিএস জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন কিশোর লাঠিসোঠা নিয়ে বিল্বগ্রাম বাজারে ফিল্মি স্টাইলে সালাম সরদার নামের এক যুবকের উপর হামলা চালায়। এসময় ওই যুবক হামলাকারীদের হাত থেকে প্রানে বাঁচতে বাজারের আসমা ফার্মেসীতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা ফার্মেসীর মধ্যে ঢুকে তাকে এলোপাথারী পিটিয়ে আহত করে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে ফার্মেসীর মালিক মশিউর রহমান ঝন্টুসহ কপক্ষে বাজারের ১০ জন ব্যবসায়ী আহত হয়। ব্যবসায়ীদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বিল্বগ্রাম বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, সালাম সরদার নামের স্থানীয় এক যুবক প্রথম দফায় হামলার স্বীকার হয়ে দৌঁড়ে আসমা ফার্মেসীতে আশ্রয় নেয়। পরে হামলাকারীরা ওই ফার্মেসীতে ঢুকে দ্বিতীয় দফায় তাকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে এবং ফার্মেসী থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নেয়। অবিলম্বে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচী গ্রহন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

এবিষয়ে গৌরনদী সরকারী কলেজের সাবেক জিএস জাহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ জুয়ারীদের আটক করায় তিনি (জাহিদুল ইসলাম) ইনফরমেশন দিয়েছে বলে তাকে সন্দেহ করে স্থানীয়রা। এনিয়ে তার সাথে একটু ঝামেলা হয়। পরে তার সমর্থকরা গিয়ে একজন মেরেছে বলে তিনি জানতে পারেন। তবে হামলায় তিনি জড়িত ছিলেননা বলেও উল্লেখ করেন। এবিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার জানান, ঘটনার খবর পাওয়ামাত্র বিল্বগ্রাম বাজারে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এবিষয়ে (মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত) এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন