১৭ই অক্টোবর, ২০১৯ ইং, বৃহস্পতিবার

শিরোনাম
বগুড়ায় ১৪৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে আশা কৃর্তৃক বৃত্তি প্রদান করেছে পিরোজপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপন দাবি চ্যানেল ৩৬৫ এর পক্ষ থেকে ফরচুন সুজ লিঃ চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা র‌্যাব-১১’র অভিযানে না’গঞ্জে ৪ পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রেফতার গণভবনে যাবেন না যুবলীগ চেয়ারম্যান সম্ভবত : হারুনুর রশীদ কুড়িগ্রামে ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ মঠবাড়িয়ায় স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় যুবকের কারাদন্ড (বায়োমেট্রিক হাজিরা জালিয়াতির অভিনব কৌশল) একইসাথে দুই হাসপাতালে চাকরি করছেন ড. রমিজ কুড়িগ্রামে গ্রামীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিয়ের গীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

এখনো গাইডই ভরসা সৃজনশীলে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

সৃজনশীল পদ্ধতির কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গাইড নির্ভরতা কমছে না, বরং দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় শিক্ষকদের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের পড়া তৈরি সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে গাইড নির্ভরতা। এ দিকে সৃজনশীলের কারণে নানাভাবে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তুলনামূলক কম মেধাবী শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল নিয়ে হয়রানি আর দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই। অন্য দিকে সৃজনশীল ব্যবস্থা সঠিকভাবে প্রয়োগের অভাবে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মেধাবী শিক্ষার্থীরাও। অনেক পরীক্ষক রয়েছেন যাদের সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন ও খাতা মূল্যায়ন বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ নেই কিন্তু তার পরও তারা খাতা মূল্যায়ন করছেন। পরীক্ষকরাই জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণবিহীন অনেক পরীক্ষক সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন করতে পারছেন না।

সৃজনশীল বিষয়ে এখনো বেশ নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে মাধ্যমিক স্তরে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) চলতি বছরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক সৃজনশীল পদ্ধতিতে পূর্ণ প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারেন। আংশিক প্রশ্ন প্রণয়ন করতে পারেন ২৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষক। আর ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ শিক্ষক সৃজনশীল বিষয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারেন না। তাদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

অনেক অভিভাবক দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন শিক্ষকেরাই সৃজনশীল বোঝেন না। শিক্ষার্থীরা কী বুঝবে। অভিভাবকদের এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেল মাউশির গত ফেব্রুয়ারি মাসের সর্বশেষ অ্যাকাডেমিক সুপারভিশন প্রতিবেদনে। সারা দেশে মাধ্যমিক স্তরের ১৮ হাজার ৫৯৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয় হাজার ২৫৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অধিদফতর।

সৃজনশীল বিষয়ে অনভিজ্ঞতার কারণে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নিজেরা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন না করে সমিতিসহ বিভিন্নভাবে বাইরে থেকে প্রশ্ন কিনে এনে পরীক্ষা গ্রহণ করে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক গাইড থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা গ্রহণ করে।

সৃজনশীল বিষয়ে শিক্ষকদের এ দুরবস্থার কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অবস্থা আরো করুণ। বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকেরা সরাসরি গাইড থেকে ক্লাসে পাঠদান করে থাকেন। আর মূল বইয়ের স্থলে প্রায় সব শিক্ষার্থীকে এখন আসল পাঠ্যবই হয়ে দাঁড়িয়েছে গাইড বই। প্রায় সব শিক্ষার্থী বাসায় একাধিক গাইড বই অনুসরণ করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে জানিয়েছেন অনেক শিক্ষকও কাসে শিক্ষার্থীদের সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানির গাইড কিনে দেয়ার কথা বলে দেন কোনো সঙ্কোচ ছাড়া।

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের একজন প্রধান পরীক্ষক জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে সৃজনশীল বিষয় প্রশিক্ষণ বন্ধ রয়েছে। এ প্রতিবেদকের কাছে তিনি অভিযোগ করে জানান, তাদের প্রশিক্ষণের সময় বলা হয়েছিল সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন ও খাতা মূল্যায়ন বিষয়ে যাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই, তারা খাতা দেখতে পারবেন না। কিন্তু বর্তমানে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

মাউশির মাধ্যমিক স্তরের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, মাধ্যমিকের সব শিক্ষকদের সৃজনশীল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ছে। অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন প্রশিক্ষণ পেয়েও অনেকে তা কোনো কাজে লাগান না।

২০১০ সালে দেশে এসএসসি পর্যায়ে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়। বর্তমানে প্রাথমিক থেকে এইচএসসি পর্যন্ত এ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এ নিয়ে শুরু থেকেই ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। কিন্তু দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও বিষয়টি এখনো দুর্বোধ্য অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে। ফলে নানাভাবে এর খেসারত দিচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন