১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং, বুধবার

শিরোনাম
শিববাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার ও সততা ষ্টোর উদ্বোধন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন নতুন আইন বিষয়ে মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে বগুড়ায় মতবিনিময় সভা জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দদের অভিনন্দন জানিয়ে বগুড়ায় আনন্দ র‌্যালী বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্থ সকলকে সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে : গণপূর্ত মন্ত্রী বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় জিডি বানারীপাড়ায় ঘরের মেঝেতে কবর খুঁড়ে স্ত্রীকে জ্যান্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা বরিশালে অস্ত্রসহ জলদস্যু গ্রেফতার লালমনিরহাটেকথিতভুয়াসাংবাদিক ৬৪০ পিচইয়াবাসহআটক ঠ্যালায় পড়ে নূর হোসেনের মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা

(রড সিমেন্টের ব্যবসার অন্তরালে বিএনপি ক্যাডার এখন আইনজীবি সেজে প্রতারনা)

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

১. ২২ মামলার আসামী আইনজীবির লেবাসে
২. ৩ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা
৩. গ্রেফতারের পরেও থেমে নেই প্রতারনা
৪. অবৈধ অ¯্র দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥এবিএম মহসিন খান বাসার পেশায় একজন আইনজীবি, প্রকৃতপক্ষে তিনি আইনজীবি নয় মোহরি। বরিশাল ক্রিমিনাল কোর্টের আইনজীবি মজিবর রহমান নান্টুর সহকারি। তিনি এরই মধ্যে গাড়ি পোড়ানো থেকে শুরু করে ধর্ষনচেষ্টাসহ মোট ২২ মামলার আসামী হিসাবে ক্ষ্যাতি অর্জন করেছেন। এই মহান পেশাকে উপজীব্য করে তিনি সাধারন মানুষকে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানো তার প্রধান কাজ হয়ে দাড়িয়েছে। শুধু এখানেই শেষ নয়, নিজের বাদীর পক্ষের সাক্ষী দিয়েও রেকর্ড গড়েছেন এই আইনজীবি নামধারি প্রতারক। তার থাবা থেকে রেহাই পায়নি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি। এ ব্যাপারে তার নামে একাধিক মামলা হলেও আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে সব সময় রেহাই পেয়ে যায়। পাঠকের সুবিধার্থে এরকম চরম ভোগান্তির শিকার কয়েকজন ভুক্তভোগি এবং পিতাকে নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা তুলে ধরা হল। কাজি মোঃ সালাউদ্দিন নামের এক দিন মজুর নগরীর নবগ্রাম সড়কের ইসলাম ট্রেডিং এক কর্মচারি হিসাবে কাজ শুরু করে। কিছুদিন পরে ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা রাসেল মোল্লার সাথে বনিবনা না হওয়াতে সালাউদ্দিন অন্যত্র চাকরি নেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল ও বাসার সালাউদ্দিনকে বিািভন্নভাবে হুমকি,ধামকি মামলার ভয় দেখানো শুরু করে। মূলত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে এই ঘটনা উল্লেখপূর্বক কোতিয়ালি থানায় একটি সাধারন ডায়রি করে,সেই থেকেই বাশার ও রাসেল ক্ষিপ্ত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, জনৈক আসাদুজ্জামান নুর (রাসেল) তার মেসার্স ইসলাম ট্রেডিং এর রড সিমেন্টর দোকানে ম্যানেজার হিসাবে চাকরি দেয়। কিছুদিন পরে উজিরপুরে জয়শ্রি বাসষ্টান্ডে মেসার্স বরিশাল ট্রেডিং প্রোঃ উম্মে সালমা খানম, পরিচালনায় কাজি মোঃ সালাউদ্দিন নামে আরও একটি দোকান চালু করে চট্রগ্রামের একটি কোম্পানির যাবতীয় রড সিমেন্টের মালামাল মেসার্স ইসলাম ট্রেডিং না নামিয়ে নতুন জয়শ্রি দোকানে নামাইয়া রাখে। সেই কারনে চট্রগ্রামের মেসার্স রাহিদ এন্টারপ্রাইজ, রডের দাম বাবদ ৪২ লাখ টাকা রাসেলের নিকট পায়্ । পরে কোম্পানির রোকজন ফোন দিয়ে পাওনা টাকা চাইলে রাসেল নিজে কথা না বলে সালাউদ্দিনকে দিয়ে কথা বলায়। যাতে কেম্পানির লোক মনে করে দোকান মালিক সালাউদ্দিন, রাসেল নয়। এক পর্যায়ে কোম্পানির লোক বরিশালে এসে রাসেলর সাথে কথা বললে তার (রাসেলের) মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে কোম্পানির মালিক দোকানে এসে পাওনা টাকা দাবি করে। পরে স্থানীয় গনমান্য ব্যাক্তিদের সাক্ষীতে মেসার্স রহিত এন্টারপ্রাইজের জনৈক মোঃ আলি মাঝিকে তিন লাখ টাকা প্রদান করে সালাউদ্দিন। বাকি ২৫ লাখ টাকা পাওনা থাকায় টাকার পরিবর্তে রড দিয়ে দেওয়া হয়। এই বিষয় আসাদুজ্জামান অবগত হয়ে মোবাইল ফোনে বিবাদি আসাদুজ্জামান (রাসেল) সালাউদ্দিনকে হুমকি দিয়ে বলে, তার অনপস্থিতিতে কেন রড দেওয়া হল? কারন জানতে চায়। পরবর্তীতে ২৮ জুন ২০১৯ তারিখ রাতে বিমান বন্দর থানার এসআই হঠাৎ করে সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে। সালাউদ্দিন এর কারন জানতে চাইলে তাকে জাননো হয় তোমার নামে মানব পাচার আইনে মামলা রয়েছে। এক পর্যায়ে সালাউদ্দিনকে জেল হাজতে প্রেরন করে, একই ঘটনা উল্লেখপূর্বক ২৫ মে ২০১৭ সালে সালাউদ্দিন বরিশাল বিমানবন্দর থানায় আরও একটি সাধারন ডায়রি করেন। এছাড়া রাসেল ও বাশার বাহিনীর অত্যাচার ও হয়রানি থেকে পরিত্রান পাবার জন্য ১৫ জুলাই ২০১৯ সালে বরিশাল পুলিশ কমিশনার বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করে। পরবর্তীতে সালাউদ্দিনের নিকট আতিœয়রা রাজশাহি নারি ও শিশু নির্যাতন আদালতে গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এধরনের কোন মামলার হদিস পায়নি। এক পর্যায়ে রাজশাহি আদালতে সালাউদ্দিনের জামিন মঞ্জুরসহ বেকসুর খালাস পায়। খোজ নিয়ে জানা য্য়া, আইনজীবি বাশার তার অপর দুই সহযোগি মহিউদ্দিন হাঃ এবং রাসেল মোল্লা ওরফে আসাদুজ্জামান নুর সহযোগে রাজশাহি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মহোদয়ের সহি স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া ওয়ারেন্ট বের করে সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করায়। ভুক্তভোগি সালাউদ্দিন জানায়, বাশার একজন আইনজীবি এবং আমার বিরুদ্ধে করা মামলার আইনজীবি হবার পরেও নিজেই আবার ওই মামলার সাক্ষী হয়েছে। যা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সালাউদ্দিন বাসারের বিরুদ্ধে জাল ওয়ারেন্ট সৃষ্টিকারি হিসাবে (১০৬/১৯) নং মামলা করে। এদিকে এই মামলার বিপরিতে বাশার ৫ অক্টোবর ২০১৯ সালে ডিজিটাল আইনে(জি আর/৯১২/২০১৯) আসামি করে মামলা দায়ের করে। মূলত রাসেল রড,সিমেন্ট ব্যবসার আড়ালে প্রতারনা চালিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে । তার এ কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে কুখ্যাত আইনজীবি খ্যাত বাশার। এদের বিরুদ্ধে বরিশালে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকার পরেও পুলিশ বলছে আসামী ধরার চেষ্টা চলছে। এসব মামলার মধ্যে ওই দুইজনের বিরুদ্ধে ৩ টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং ২ মামলায় সাজাও হয়েছে। তারপরেও আসামীরা রয়েছে বহাল তবিয়তে। পাশাপাশি বাহিরে থেকে বাদিকে বিভিন্নভাবে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে বাশারের পিতা আব্দুর রশিদ মোহরীর সাথে আলাপ করলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, তার পুত্র হওয়া সত্বেও বাশার দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছে। পিতার ভাষ্য মতে, বাশার এখনও আইনজীবির কোন সনদ পায়নি ,মূলত মোহরি হিসাবে কাজ করলেও সবাইকে আইনজীবি পরিচয় দেয়। কালো কোট পড়ে সকালে আদালত পাড়ায় ঘোরাঘোরি করে মক্কেল হাতিয়ে নেয়। ইতিপূর্বে ডেসটিনি এবং ওয়াল্ড ভিশন নামের দুইটি এমএলএম কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে তিনি মানুষকে নিজের করে নিতে পারে সহজেই। সম্প্রতি তার পিতাকে প্রকাশ্যে বরিশাল আদালতে বসে পিটিয়ে মারাতœকভাবে আহত করে। পিতার দায়েরকৃত একটি মামলায় জামিন পেয়েই কোট চত্তরে বসেই পিতাকে মারধর করে। গত ৩১ অক্টোবর প্রতিবন্দি আপন বড় ভাই নজরুলকে নগরীর নানি বুড়ির মাজারের সামনে তার কয়েকজন সহযোগি নিয়ে পিটিয়ে বুকের দুইট হাড় ভেঙ্গে দেয়। ভাই নজরুল এখন হাড়ভাঙা নিয়ে বরিশাল শেরইবাংলা চিকিৎসা মহা বিদ্যালয় হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। বাশারের পিতা আরও জানান, বিগত বিএনপি জামায়াতের আন্দোলনের সময় ১৬ জানুয়ারী ২০১৫ সালে নতুল্লাবাদ এলাকায় গাড়ি পোড়ানো মামলার আসামি এই বাসার,যার মামলা নং ৯৭/(৩)পি বাদি রাষ্ট্র তৎকালীন সময় বিএনপির ক্যাডার হিসাবে কাজ করেছে। বর্তমানেও ২২ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে কাজ করছে। গাড়ি পোড়ানো আন্দোলনের সময় বাশার তার নিকটে থাকা লাইসেন্সবিহীন পিস্তল দিয়ে পুলিশের উপর গুলি করার দৃশ্য সংবাদের সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হল। যার, অনুসন্ধান করলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সয়ং পিতা আব্দুর রশিদ জানান। সার্বিক বিষয় নিয়ে বাসারের সেল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন