২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, সোমবার

সিদ্ধিরগঞ্জে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছে প্রেমিকা থানায় অপহরণ মামলা, প্রেমিকের বোন গ্রেপ্তার

আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ::প্রেমিক ইমরানের সাথে প্রেমিকা ফারিয়া পালিয়ে বিয়ে করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশন এলাকায়। অথচ প্রেমিকার মা সাজেদা বেগম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন , মামলা নং ১৩, ধারা ৭/৩, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩, তারিখ ৭-১১-২০১৯। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই কামরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশন থেকে প্রেমিক ইমরানের বড় বোন সাজেদা (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শুক্রবার সাজেদাকে থানার মধ্যে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে দেখা গেছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ৩ টার সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ সাজেদাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠিয়েছে। প্রেমিক যুগলের কারনে দুধের শিশুকে রেখে এখন জেল হাজতে রয়েছেন প্রেমিক ইমরানের বড় বোন সাজেদা। মামলার এজাহারে বাদী সাজেদা বেগমের স্বামী ফারুক উল্লেখ করেন, গত ৫-১১-২০১৯ তারিখ তার মেয়ে ১০ শ্রেনীর ছাত্রী ফারিয়াকে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশন স্কুলের সামনে থেকে ইমরান (১৮) পিতা মোবারক আলী মোল্লা , সাং অলংকারকাঠি, থানা- নেছারাবাদ, জেলা পিরোজপুর, ইউনুস আকন(৪০) পিতা আব্দুল হক আকন সাং- শর্শিনা, থানা- নেছারাবাদ জেলা পিরোজপুর, ও সাজেদা বেগম (২৫) স্বামী মিজান পিতা মোবারক আলী মোল্লা, সাং অলংকারকাঠি, থানা নেছারাবাদ, জেলা পিরোজপুর বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ারষ্টেশন সকাল ৮ টা ৪০ মিনেটের সময় ফারিয়াকে ফুসলিয়ে অপহরন করে একটি অজ্ঞাত মাইক্রেবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে বাদী জানতে পারেন ফারিয়াকে পিরোজপুরের নেছারাবাদের (স্বরুপকাঠি ) অলংকারকাঠী গ্রামে নিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে প্রেমিক যুগল কোর্ট ম্যারেজ করে বিয়ে করেছে। এ ঘটনায় ফারিয়ার পিতা ফারুক স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে এক শালিস বৈঠক বসলে তার মেয়ে সবার সামনে সাফ জানিয়ে দেয় যে ইমরানের সাথে সেচ্ছায় চলে এসে বিয়ে করেছে তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এ কথা শুনে ফারিয়ার বাবা ফারুক ভরা মজলিশে ফারিয়াকে থাপ্পড় দেন। এতে শালিস বৈঠকের সবাই ফারুকের উপর ক্ষুব্ধ হন।

এদিকে ফারিয়ার মা সাজেদা বেগমের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ইমরানের বড় বোন সাজেদাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, তার দুধের শিশুর কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। এদিকে বাদী সাজেদা মামলায় উলে­খ করেন ১ নং আসামী ইমরান তার বড় বোনের বাসায় বেড়াতে এলে তার মেয়ে ফারিয়ার সাথে পরিচয় হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক করার জন্য পায়তারা করেছে। ইমরানের সাথে ফারিয়ার পরিচয় সূত্রে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে বলে ফারিয়ার মায়ের বক্তব্য থেকেই সুস্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এবং স্থানীয়রা সচেতন মহল মনে করেন সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার ষ্টেশন এলাকাটি একটি নিরাপত্তাবলয় এরিয়া। সেখান থেকে সকালে একটি ছাত্রীকে অপহরণ করে একটি মাইক্রোবাসে কিভাবে উঠিয়ে নেয়, তবে পাওয়ার ষ্টেশনের নিরাপত্তারক্ষীরা কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচিছলেন, অচেনা অজানা মাইক্রোবাস পাওয়ার ষ্টেশনে প্রবেশ করলে প্রধান ফটকে নিরপাত্তা রক্ষীদের নির্ধারিত খাতায় গাড়ির নাম্বার লিপিবদ্ধ করে এবং কার কাছে যাবে তাও লিপিবদ্ধ করার পর প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান গেটে এসব কিছুই নেই নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে। এছাড়া সিদ্ধিরঞ্জ থানা ওসি কামরুল ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত— না করে নিরাপত্তারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ না করে কিভাবে অপহরণ মামলা নিলেন এ প্রশ্ন পাওয়ার ষ্টেশনবাসীর সকলের। যেহেতু ফারিয়া ও ইমরানের সাথে পরিচয় হয়েছে এবং ইমরান ফারিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার পায়তারা কথা স্বীকার করেছে ফারিয়ার মা সাজেদা বেগম তবে এখানে কোন অপহরণের ঘটনা ঘটেনি বলে মনে করেন সচেতন মহল। তারা মনে করেন প্রেমের কারণে ইমরান ও ফারিয়া ইমরানের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নেছারাবাদের (স্বরুপকাঠি ) অলংকারকাঠিতে অবস্থান করছে। এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বেরসিক পুলিশ দুধের শিশুকে রেখে তার মা সাজেদা বেগমকে আদালতে পাঠনোর কারণে দুধের বাচ্চার কান্না যেন থামছেইনা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মুজিব বর্ষ
মুজিববর্ষ