১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং, সোমবার

একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত অনিকের

আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি::কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র অনিক মিয়া একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়েছে। তার ইচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। ছেলের উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশুনার খরচ জোগান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র বাবা-মা । দারিদ্রতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মেনে নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যত ফ্যাকাশে হয়ে পড়ার শঙ্কায় দিন কাটছে অনিকের।
উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের তালুক শিমুলবাড়ী গ্রামের দিন মজুর আব্দুস ছালামের ছেলে অনিক মিয়া । মা রেনুকা বেগম গৃহিনী। চার ভাই বোনের মধ্যে অনিক দ্বিতীয় । বড় বোনের পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয়ে গেছে। বাকি দুই ভাইয়ের মধ্য একজন ৫ম অপর জন ২য় শ্রেণীতে পড়ছে।বর্তমানে তিন ভাই ও বাবা-মাসহ পাঁচ সদস্যের সংসার। তিন ছেলের পড়ালেখা ও জীবন-বাঁচার তাগিতে স্ত্রী-সন্তানকে ছেড়ে ঢাকায় একটি রাইস মিলের শ্রমিকের কাজ করছেন অনিকের বাবা।
অনিক জানান, ২০১৭ সালে শিমুলবাড়ী মিয়াপাড়া নাজিমউদ্দিন বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৭৩ পয়েন্ট এবং ২০১৯ সালে রংপুর সরকারি কলেজে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৪২ পেয়েছে। সে রংপুরে বন্ধুদের মেসে অল্প খরচে শেয়ার করে থাকতো। সেখানে টিউশনি করে অতিকষ্টে এইচএসসি পাশ করে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের কাছে ধার দেনা করে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অংশ নেয়। সে একে একে জগন্নাথ, জাহাঙ্গীর নগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ঢাকাসহ চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হলেও অনিকের বড় ইচ্ছা সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিও সুযোগ পেলেও ভর্তির টাকা যোগাড় করতে না পারায় স্বপ্ন পূরন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন কাটছে অনেকের।
অনিকের মা রেনুকা বেগম বলেন,‘ ঘরে জমানো অর্থ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আমাদের সন্তানের। কয়েক শতক ভিটে বাড়ির জমি ছাড়া আর কোন সম্পদ নেই। অভাবের কারণে ছেলের পড়াশোনা চালাতে পারবো কিনা জানিনা। ছেলের স্বপ্ন পূরনের জন্য সরকারের সহযোগিতা চান অনিকের মা।
অনিকের বাবা আব্দুস ছালাম জানান, স্ত্রী ও তিন সন্তানের পড়াশুনা খরচ যোগাতে ঢাকায় একটি রাইস মিলে শ্রমিকের কাজ করছি। এখানে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে সংসারই ঠিকমত চলছে না। ছেলেকে কিভাবে ঢাকায় পড়াবো? ছেলের বাইরে ভর্তি করা ও সেই খরচ বহন করা আমার পক্ষে অসম্ভব। সে যদি নিজে কিছু করে ভর্তি হতে পারে আমার আপত্তি নেই। তিনিও সরকার ও বৃত্তবানদের সহযোগিতা চান।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: মাছুমা আরেফিন জানান,তারা কেউ উপজেলা প্রশাসনের সংঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেনি। যদি কেউ যোগাযোগ করে তাহলে অনিকের ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন