৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং, শুক্রবার

শীতে কাঁপছে কুড়িগ্রাম

আপডেট: ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে কুড়িগ্রামের জনজীবন। গত চার দিন থেকে কুড়িগ্রামে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। মাঝ রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘন কুয়ার সাথে বইতে থাকে হিমেল হাওয়া। বৃষ্টির মতো ঝড়তে থাকে শিশির। দুপুরে ঘন্টা খানেকের জন্য সূর্য্যরে দেখা মিললেও উত্তাপ কম। ২টার পর সূর্য্য আবার হারিয়ে যায় দিগন্তে। ফলে রাত দিন প্রচন্ড ঠান্ডায় নাকাল কুড়িগ্রামের মানুষ। শীত বাড়ার সাথে সাথে দূর্ভোগে পড়েছে নদী তীরবর্তি চরাঞ্চল এবং নি¤œ আয়ের শ্রমজীবি মানুষ। শিশু ও বয়স্করাও পড়েছে শীতের দূর্ভোগে। পাশা পাশি গোবাদীপশুও রেহাই পাচ্ছে না শীতে হাত থেকে। হঠাত করেই শীতের তীব্রতা বাড়ায় শীতের কাপড়ের দোকান গুলোতে ভীর জমাচ্ছে শীতার্ত মানুষ। বেশী ভীড় লক্ষ্য করা গেছে ফুটপাতের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে। নিজেদের সাধ্যমত কিনছেন শীতবস্ত্র। নাগেশ্বরীতে এমনি ফুটপাতের দোকানে আসা নারায়নপুর ইউনিয়নের মুকুল মিয়া জানান, কয়েকদিন থেকে শীত বাড়ায় পরিবারপরিজনের জন্য গরম কাপর কিনতে এসেছেন তিনি। রিক্সা চালক মোতাহার আলী জানান, ঘন কুয়াশা এবং ঠান্ডা বাতাশের কারণে সময়মতো রাস্তায় বেড় হতে পারছেন না তিনি। সোনা হাট স্থলবন্দর শ্রমিক হাসেম আলী, আব্দুল করিম জানান, সকাল আটটায় পাথর ভাঙগা কাজে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও কুয়াশার কারনে এক ঘন্টা পিছিয়ে যায় তাদের কাজ। ফলে আয় কমেছে তাদের। এদিকে কুয়াশা বাড়ায় নিত্যান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেড় হচ্ছে না মানুষ। সন্ধ্যার আগেই গুটিয়ে যাচ্ছে হাট বাজার, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গ্রাম অঞ্চলের দোকানপাঠ। সকালের বিদ্যালয়গামী শিশু এবং বয়বৃদ্ধ মানুষের কষ্ট বেড়েছে দ্বিগুন। সারাদিন সূর্য্যরে দেখা না মেলায় গরম কাপড় জড়িয়েই কাজে যোগ দিতে হচ্ছে সবাইকে। কুড়িগ্রামে আজ সকালে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রাম আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষন কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জাকির হোসেন জানান, আগামি ২০ ডিসেম্বরের পর তাপমাত্রা আরোও কমে যাবে এবং শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে। এদিকে শীতে কারনে বাড়ছে শীত জনিত রোগ। কুড়িগ্রামের জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর সরদার শিপন জানান, শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কিছু কিছু আসছে তবে শীতের প্রভাব এখনো তেমন ভাবে শুরু হয়নি। জেলা ত্রাণ শাখা জানান, ইতিমধ্যে উপজেলা গুলোতে ৫১ হাজার ৫১৪টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন জানান, শীত মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন