৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং, শুক্রবার

যন্ত্রপাতি ছাড়াই চলছে করোনাভাইরাস পরীক্ষা!

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি::দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর উত্তরের বাংলাবান্ধা। এ বন্দর থেকে প্রায় দুইশ’ কিলোমিটার দূরে চীন। চীনের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটান। আর বাংলাদেশ থেকে এসব দেশে যেতে বাংলাবান্ধা ব্যবহার করেন অনেকেই। সম্প্রতি চীনে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২৬ জনে। করোনাভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে বাংলাদেশেও।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বসানো হয়েছে মেডিকেল টিম। তবে এখনো তাদের কাছে পৌঁছেনি থার্মাল স্ক্যানার। শুধু প্রাথমিকভাবে শুধু মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের। স্বাস্থ্য পরীক্ষার যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্বিগ্ন যাত্রীরা।

চীনের মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণের লক্ষ্যে গত ২৮ জানুয়ারি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের একটি কক্ষে মেডিকেল টিমের এ কার্যক্রম চালু হয়। তবে মেডিকেল ক্যাম্পে যন্ত্র বা শনাক্তকরণ মেশিন না থাকায় মাত্র একজন সরকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এ মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম। ইমিগ্রেশন দিয়ে আসা যাত্রীদের মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, সর্দি, কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা হচ্ছে কি না শুধু তাই জিজ্ঞাসাবাদে চলছে করোনা ভাইরাস নির্ণয়।

এরকম একটি স্পর্শকাতর মরণব্যাধি পরীক্ষায় কোনো যন্ত্রপাতি না থাকায় চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।

পাসপোর্টধারী কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, দেশের অন্যতম স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট বাংলাবান্ধা। অথচ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেই কোনো যন্ত্রপাতি। দ্রুত থার্মাল স্ক্যানার বসানোর দাবি জানান তারা।

গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মেডিকেল ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়- কোনো যন্ত্রপাতি নেই, পাসপোর্ট যাত্রীদের মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, সর্দি, কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা হচ্ছে কি না- শুধু মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদ করেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে দু’জন স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ‘আমাদের থার্মাল স্ক্যানার মেশিন দেওয়া হয়নি। তাই স্বাস্থ্যবিভাগ হতে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে সেভাবেই দায়িত্ব পালন করছি।’

গত এক মাসে প্রায় ১৫ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করলেও এ ইমিগ্রেশন দিয়ে কোনো চীনা নাগরিক যাতায়াত করেননি বলে জানিয়েছেন বন্দরটির ইমিগ্রেশন অফিসার ইনচার্জ মো. মকছেদ আলী।

তেঁতুলিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুহাইমিনুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের এ মেডিকেল ক্যাম্পে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে কোনো যন্ত্রপাতি নেই। থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে অন্যকিছু মনে হলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন