২৮শে মে, ২০২০ ইং, বৃহস্পতিবার

পিপিই ও মাস্ক সংকটে উদ্বেগ জানানো চিকিৎসককে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট: মে ২২, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনলাইন ডেস্ক::করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় পিপিই ও মাস্ক সঙ্কটের কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বরখাস্ত হওয়া ভারতের এক চিকিৎসককে এবার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডা. সুধাকর রাও নামে ওই চিকিৎসককে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনায় দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানানো হয়েছে।

২০ বছরের অভিজ্ঞ অ্যানেসথেটিস্ট ডা. সুধাকর রাও দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দেশটির গণমাধ্যমে শিরোনামে এসেছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাডু প্রদেশের বিশাখাপত্তমের একটি হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন তিনি। সেখানে মাস্ক এবং পিপিই সঙ্কটের কথা জানিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দৃশ্য দেখিয়ে ফেসবুক লাইভ করে আলোচনায় এসেছিলেন ডা. সুধাকর।

ওই ফেসবুক লাইভটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে পুলিশ এই চিকিৎসককে হাসপাতাল থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনে। বর্তমানে এই চিকিৎসককে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

করোনা মহামারিতে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতালে পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ও প্রস্তুতির অভাবের কথা জানিয়ে চিকিৎসকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। এর মধ্যেই নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে ফেসবুক লাইভ করার জেরে ওই চিকিৎসককে মানসিক ভারসাম্যহীন উল্লেখ করে হাসপাতালে পাঠানো হলো।

শনিবার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া ওই চিকিৎসককে আটকের ভিডিওতে প্রথমে দেখা যায় শার্টবিহীন অবস্থায়। পরে দেখা যায় রাস্তার পাশে নিজের গাড়িতে বসে আছেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে চিৎকার করছেন তিনি।

অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এই চিকৎসক রাস্তার ওপর পড়ে আছেন। তার পেছন দিক থেকে হাত বাঁধা রয়েছে। এ সময় পুলিশের এক কনস্টেবল ডা. সুধাকরকে লাঠি দিয়ে পেটান। পুলিশ বলছে, চিকিৎসককে পেটানো ওই কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীদের সামনে ওই চিকৎসককে বেঁধে একটি অটোরিকশাতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. রাও বলেন, হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়ি থামিয়ে দেন পুলিশ সদস্যরা। পরে তাকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে আনা হয়।

ডা. রাও বলেন, ‘তারা আমার মানিব্যাগ এবং ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে আমাকে মারধর করে।’ এই চিকিৎসককে আটকের ঘটনায় দেশটিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং অন্যরা রাজ্য সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতারা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেছেন।

তামিলনাডুর সরকারি একটি হাসপাতালের এই চিকিৎসক গত ৩ এপ্রিল পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী এবং মাস্ক সঙ্কটের অভিযোগ সাংবাদিকদের জানান। হাসপাতালের একটি বৈঠকে মাস্ক সঙ্কটের বিষয়টি তোলায় তাকে একবার বৈঠক থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ডা. রাও বলেন, নতুন মাস্ক না পাওয়া পর্যন্ত একটি মাস্ক আমাদেরকে ১৫ দিন পর্যন্ত ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জীবন বিপন্ন করে আমরা কীভাবে রোগীদের চিকিৎসা দেব। স্থানীয় একটি টেলিভিশনে তার এই বক্তব্য প্রচার হওয়ার পর তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

সরকার এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিলেও চিকিৎসক রাওকে বরখাস্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জনসম্মুখে মাস্ক সঙ্কটের কথা জানিয়ে তিনি সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।

কয়েকদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বরখাস্তের আদেশ বাতিলের অনুরোধ জানান তিনি। কিন্তু স্থানীয় সরকার তার এই অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি।

হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর অভিযোগ আনার পর থেকে রাও এবং তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাও বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে লোকজন মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকি দিচ্ছে।’

ওই চিকিৎসকের মা কাভেরী রাও বলেন, ‘আমার ছেলের মানসিক কোনো সমস্যা নেই। সে একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক। কিন্তু উদ্বেগ জানানোর পর থেকেই সে হয়রানির শিকার হচ্ছে। লোকজন যখন আমার কাছে ফোন করে তার ব্যাপারে জানতে চায় তখন আমার খারাপ লাগে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন