৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

শিরোনাম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের বিরুদ্ধে মামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ষণ আইনের নীতিগত অনুমোদন মন্ত্রিসভায় হাতের স্পর্শ ছাড়াই পানি পান ! প্যাডেলট্যাপ কমিয়ে দিবে করোনাসহ অন্যান্য রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন *ভোলা জেলা পুলিশ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২০ এর শুভ উদ্বোধন * জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি পূর্ণগঠন  রিফাত শরীফ হত্যা, দশ আসামির ভাগ্য নির্ধারণ ৩০ সেপ্টেম্বর

১৭ হাজার ৩০৮ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এতে করে দেশের অর্থনীতি সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। অর্থনীতির দূরাবস্থা উত্তরণে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এটি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক। এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩০৮ জন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকটি। আগস্ট শেষে এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ৩৬০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। এবং মঞ্জুরকৃত ৮৬২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের শতভাগ ঋণ বিতরণ সম্পন্ন হলে অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি মূলধনের বিপরীতে শিল্প ঋণ, রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, সিএসএমই, কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনা, শস্য ও ফসল চাষ, ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঋণ সহায়তা এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। এসব খাতে অগ্রণী ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংকটি শস্য ও ফসল খাতে ১৪ হাজার ৭৬১ জন কৃষককে ৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এ খাতে ব্যাংকটির বরাদ্দ রয়েছে ৪৪০ কোটি টাকা। কৃষি খাতের বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বরাদ্দ ১২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ১০৬ জন কৃষকে ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিতরণ করেছে।

রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতায় ব্যাংকটি ১৩৫ কোটি ৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এ খাতে ১০৬টি প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ ঋণ বিতরণ করেছে। চলতি মূলধনের বিপরীতে শিল্পঋণ খাতে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এছাড়া মঞ্জুরকৃত ২৫ প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৪৮৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা বিতরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। সিএসএমই খাতে ৪৮ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এছাড়া ২২৩ প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রস্তাব মঞ্জুরির নিমিত্তে ৩২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিতরণের প্রক্রিয়াধীন আছে।

ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, কৃষক ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ঋণ সহায়তা প্রকল্পে ৫টি আবেদনের বিপরীতে ৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিতরণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে প্রণোদনায় ২৮৩ এলসির বিপরীতে ৬৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংকটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম জানান, করোনা কারণে দেশের সার্বিক অর্থনীতি অনেকটা সংকটে পড়েছে। এটা শুধু আমাদের দেশে নয় বহির্বিশ্বে একই অবস্থা। সঙ্কট উত্তরণে আমাদের দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সেটি শুধু সময়োপযোগী বলবনা বরং সময়ের আগে দক্ষতার সঙ্গে সুনিপুণভাবে জনগণকে প্রণোদনা প্যাকেজ উপহার দিয়েছেন। শিল্প, কৃষি, সিএমএমইসহ যতগুলো প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতি অচিরেই ঘুরে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, এটি শতভাগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নিরলসভাবে আমরা কাজ করছি। স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সন্তুষ্টিপত্র পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনার মধ্যে ইতোমধ্যে আমরা রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধে বরাদ্দকৃত ঋণের অর্থ শতভাগ বিতরণ করেছি। কৃষিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়াসহ সকল প্রণোদনার অর্থ বিতরণ বাস্তবায়নে আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সক্রিয় রয়েছেন। আমি আশাবাদী শুধু আমার ব্যাংক নয় দেশের সব ব্যাংকই অর্থনীতির গতি ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ বাস্তবায়নে চেষ্টা করবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ