৩০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

শিরোনাম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের বিরুদ্ধে মামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ষণ আইনের নীতিগত অনুমোদন মন্ত্রিসভায় হাতের স্পর্শ ছাড়াই পানি পান ! প্যাডেলট্যাপ কমিয়ে দিবে করোনাসহ অন্যান্য রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন *ভোলা জেলা পুলিশ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২০ এর শুভ উদ্বোধন * জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি পূর্ণগঠন  রিফাত শরীফ হত্যা, দশ আসামির ভাগ্য নির্ধারণ ৩০ সেপ্টেম্বর

গৌড়ের রত্ন’ ঐতিহাসিক ছোট সোনামসজিদ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছোট সোনামসজিদ। সুলতান আলাউদ্দীন শাহর শাসনামলে নির্মিত এ মসজিদ এখনো দাঁড়িয়ে আছে সগৌরবে। মুসলিম সম্প্রদায় তো বটেই ইতিহাসপিপাসুদের কাছেও এখন এটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই মসজিদটিকে বলা হতো ‘গৌড়ের রত্ন’। এর বাইরে ছিল সোনালি রঙের আস্তরণ। মতান্তরে মসজিদের গম্বুজে ছিল সোনালি আস্তরণ। সূর্যের আলোতে তা সোনার মতোই ঝলমল করত। আর সে জন্যই এটি সোনামসজিদ নামে পরিচিতি পায়। গৌড় নগরীতে অনুরূপ স্থাপত্যশৈলীর আরেকটি মসজিদ থাকায় একটিকে বড় সোনামসজিদ ও আরেকটিকে ছোট সোনামসজিদ হিসেবে নামকরণ করা হয়। বড় সোনামসজিদ ভারতের মালদহ জেলায় অবস্থিত।

ছোট সোনামসজিদ বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তঘেঁষা শাহবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুরে এর অবস্থান। যখন মসজিদটি নির্মাণ করা হয় তখন এলাকাটি প্রাচীন বাংলার রাজধানী ‘গৌড় নগরীর’ উপকণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি ছিল। মসজিদ থেকে খানিক এগিয়ে গেলেই ভারতীয় সীমান্ত বা সোনামসজিদ স্থলবন্দর। সীমান্তের ওপারেই রয়েছে ঐতিহাসিক কোতোয়ালী দরওজা। সোনামসজিদের অবস্থান কোতোয়ালী দরওজা থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে। এই মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

মসজিদটির নির্মাণকাল এখনো অজানা। তবে মসজিদের একটি শিলালিপি থেকে গবেষকরা সুস্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন যে, এটি সুলতান আলাউদ্দীন শাহর শাসনামলে নির্মিত। মসজিদের প্রধান প্রবেশপথের উপরিভাগে স্থাপিত ওই শিলালিপিতে উলেস্নখ রয়েছে, এটি মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী নির্মাণ করেছেন। ওই শিলালিপিতে নির্মাণের সঠিক তারিখ ছিল। কিন্তু অক্ষরগুলো মুছে যাওয়ায় নির্মাণকাল জানা সম্ভব হয়নি। তবে যেহেতু সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহর নাম উলেস্নখ রয়েছে সেহেতু মসজিদটি তার শাসন আমলের বলে নিশ্চিতভাবেই ধরে নেওয়া হয়। সুলতান আলাউদ্দিন শাহ এ অঞ্চলে শাসন করেছিলেন ১৪৯৪ থেকে ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।

সোনামসজিদের স্থাপত্যশৈলীতেও রয়েছে অনন্যতার ছাপ। ২০ ফুট উচ্চতার এ মসজিদ উত্তর-দক্ষিণে ৮২ ফুট লম্বা ও পূর্ব-পশ্চিমে ৫২.৫ ফুট চওড়া। এর প্রতিটি দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৬ ফুট। দেয়ালগুলো ইটের কিন্তু মসজিদের ভেতরে ও বাইরে পাথর দিয়ে ঢাকা। মসজিদের চারকোণে চারটি বুরুজ আছে। পূর্ব দেয়ালে পাঁচটি খিলানযুক্ত দরজা, খিলানগুলো অলংকৃত এবং বহুভাগে বিভক্ত। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে আছে তিনটি করে দরজা। পশ্চিম দিক দিয়ে একটি সিঁড়ি উঠে গেছে মসজিদের অভ্যন্তরে উত্তর-পশ্চিম দিকে দোতলায় অবস্থিত একটি বিশেষ কামরায়। কামরাটি পাথরের স্তম্ভের উপর অবস্থিত। মসজিদের গঠন অনুসারে এটিকে জেনানা-মহল বলেই ধারণা করা হয়। তবে অনেকের মতে, এটি ছিল সুলতান বা শাসনকর্তার নিরাপদে নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা করে তৈরি একটি কক্ষ, অর্থাৎ বাদশাহ্‌-কা-তাখত্‌। মসজিদের ভেতরে কালো ব্যাসাল্টের ৮টি স্তম্ভ দ্বারা উত্তর দক্ষিণে তিনটি আইল ও পূর্ব-পশ্চিমে পাঁচটি সারিতে বিভক্ত। পাঁচটি দরজা বরাবর মসজিদের অভ্যন্তরে রয়েছে পাঁচটি মিহরাব। এদের মধ্যে মাঝেরটি আকারে বড়। প্রতিটির নকশা অর্ধ-বৃত্তাকার। মিহরাবগুলোতে পাথরের ওপর অলংকরণ রয়েছে। মসজিদের ভেতরে ৮টি স্তম্ভ ও চারপাশের দেয়ালের ওপর

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ