৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

কর্মবিরতি প্রত্যাহার : যাত্রী ভোগান্তি নিরসনে নৌ বন্দরে মেয়র সাদিক

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

লঞ্চের দুই মাস্টারকে জেলে পাঠানোর প্রতিবাদে বরিশালঢাকা নৌরুটে টানা ছয় ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন যাত্রীবাহী নৌযান শ্রমিকরা সোমবার দুপুর ২টা থেকে কর্মবিরতি শুরুর কারণে রাতে নির্ধারিত সময়ে বরিশাল থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ ছেড়ে যায়নি তবে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকায় নৌযান শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা এর ফলে রাত সাড়ে ৯টার পর পরই বরিশালঢাকা নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয় ধর্মঘটের কারণে দীর্ঘ ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা বরিশাল নদী বন্দর থেকে রাত ১০টার পরে ৭টি লঞ্চে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে বরিশাল থেকে ছেড়ে যাওয়া ৭টি লঞ্চের মধ্যে পাঁচটি সরাসরি বরিশাল নদী বন্দর এবং অপর দুটি ভায়া রুটের লঞ্চ বলে জানিয়েছেন নৌ বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমানএর আগে সোমবার সকালে বরিশালের নিজাম শিপিং কোম্পানির অ্যাডভেঞ্চার অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দুটি লঞ্চের মাস্টার জামাল হোসেন রুহুল আমিনের জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয় মেরিন কোর্টবাংলাদেশ যাত্রীবাহী নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাস্টার আবুল হাসেম জানান, গত বছর বরিশালঢাকা নৌরুটের মেঘনা নদীর মিয়ারচর চ্যানেলে ঘন কুয়াশার কারণে মধ্য রাতে অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে এতে কোন যাত্রীর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় দুর্ঘটনা কবলিত দুটি লঞ্চের মাস্টার রুহুল আমিন মাস্টার জামাল হোসেনসহ চারজনের সার্টিফিকেট সনদ চার মাসের জন্য জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিআইডব্লিউটিএ ট্রাফিক বিভাগ মেরিন কোর্টে মামলা দায়ের করে। সোমবার সকালে লঞ্চের দুই মাস্টার ওই মামলায় মেরিন কোর্টে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক তাদের আবেদন না মঞ্জুর করে দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। খবর বরিশালে শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা এবং তাৎক্ষণকভাবে শ্রমিকরা নৌ বন্দর থেকে লঞ্চগুলো সরিয়ে মাঝ নদীতে নোঙর করে জামিন আবেদন বাতিলের প্রতিবাদ জানানসরেজমিনে দেখাগেছে, আকস্মিকভাবে কর্মবিরতি ডাক দেওয়ায় যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিকাল থেকে অসংখ্য যাত্রী ঘাটে এসে লঞ্চ ছাড়বে না শুনে ফিরে যান। অনেককে লঞ্চ ছাড়ার অপেক্ষায় রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে ফিরে যেতে দেখা গেছে। খবর পেয়ে রাতে নদী বন্দরে ছুটে যান বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তিনি নদী বন্দরে লঞ্চ মালিক এবং শ্রমিকদের সাথে কথা বলে প্রথমে একটি লঞ্চ ছাড়ার ব্যবস্থা করেনকিন্তু তার মধ্যেই ঢাকায় আন্দোলনরত শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের বৈঠক শেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা। খবর পেয়ে মাঝ নদীতে নোঙর করা লঞ্চগুলো বরিশাল নদী বন্দরে বার্দিং করা হয়বিআইডব্লিউটিএ যুগ্ম পরিচালক নৌ নিরাপত্তা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটি আদালতের ব্যাপার। আমাদের হাতে কিছু নেই। তার পরেও ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের সাথে কথা বলে লঞ্চ ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা তাতে রাজি হননি। তবে রাতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে কর্মবিরতি তুলে নেয়ার আশ্বাস দেন শ্রমিকরা। এর ফলে রাত সাড়ে ৯টার পর থেকেই নৌযান চলাচল শুরু হয়বরিশাল নদী বন্দরের দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ যুগ্ম পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কর্মবিরতি প্রত্যাহারের কারণে রাতে বরিশাল নদী বন্দর থেকে পারাবত, সুরভী, সুন্দরবন১০, অ্যাডভেঞ্চার মানামী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এছাড়া ভায়া রুটের এমভি পূবালী এবং শাহরুখ বরিশাল নদী বন্দরে নোঙর করে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যায়এর মধ্যে রাত সোয়া ১০টার দিকে এমভি মানামী এবং এমভি সুন্দরবন১০ ছেড়ে যায়। এর আগে এমভি পূবালী রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছেড়ে গেছে। তবে কর্মবিরতির কথা শুনে অনেক যাত্রী ঘাট থেকে চলে গেছেন। যে কারণে সাতটি লঞ্চ বরিশাল থেকে ছেড়ে গেলেও যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা কম ছিল

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ