৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

শিক্ষক নেতার ইন্ধনে বিএম কলেজের বোটানিক্যাল গার্ডেনে টেনিস কোর্ট নির্মাণ

আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

৩৬৫ ডেস্কঃ
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ঐতিহ্যবাহী বোটানিক্যাল গার্ডেন ধ্বংস করে লন টেনিস কোর্ট নির্মাণের পিছনে এক শিক্ষক নেতার ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি টেনিস কোর্ট সংস্কার বা নির্মানের পূর্বে কলেজ ছাত্রলীগ নেতাদের বিষয়টি বলা হয়েছে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ। তাদের সমর্থন নিয়েই কাজ শুরু করা হয়েছে বলে দাবি কলেজ অধ্যক্ষ’র। অভিযোগ রয়েছে- সব কিছুর মূলেই রয়েছেন কলেজের নব্য শিক্ষক নেতা ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল আমিন সরোয়ার। তার ইন্ধনেই টেনিস কোর্ট নির্মাণ কাজ শুরু হয় কলেজের ঐতিহ্যবাহী বোটানিক্যাল গার্ডেনে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে- কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে এসএম কাইয়ুম উদ্দিন পদত্যাগের পর তিনিই উঠে পরে লেগেছেন শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য। এত তার ওপর বেশ ক্ষিপ্তও রয়েছেন কলেজের অধিকাংশ সিনিয়র শিক্ষক। এমন অবস্থার মধ্যে তারই ইন্ধনে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের ক্ষতি করে নির্মান করা হচ্ছে বিলাসবহুল লন টেনিস কোর্ট। কলেজ ভিত্তিক বাম ঘরানার ছাত্র সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, ‘মোটামুটি সব দিক ম্যানেজ করেই মাঠে নেমেছেন এই শিক্ষক। কলেজ অধ্যক্ষও পড়েছেন বেকায়দা অবস্থায়। শুধু তাই নয় সহকারী অধ্যাপক আল আমিন সরোয়ারের কার্যক্রমে ইতিমধ্যেই নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার নেতৃত্বে রয়েছে বেশ কয়েকজন শিক্ষক। যারা টেনিস কোর্ট নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছেন ভাগে ভাগে। শোনা যাচ্ছে এই টেনিস কোর্ট নির্মান ব্যয় ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও এর ভাগ পেয়েছেন ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা। যে কারণে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা বোটানিক্যাল গার্ডেনে টেনিস কোর্ট নির্মান বন্ধের দাবি জানাচ্ছে তখন ছাত্রলীগের নেতারা নিশ্চুপ। ছাত্রলীগের নেতাদের হাতে না রেখে এই কাজ করতে পারতেন না সহকারী অধ্যাপক আল আমিন সরোয়ার। আর তাদের হাতে রেখেই এই লন টেনিস কোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে।’

টেনিস কোর্ট নির্মাণের বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদারের সাথে আলাপকালে তিনি জানিয়েছেন, কোনো ছাত্র সংগঠন তার কাছে এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ দেয়নি। একটি সংগঠন দিয়েছিলো। কিন্তু তাতে নির্মাণ বন্ধের দাবী জানানো হয়েছে। তবে এখানে তো টেনিস কোর্ট নির্মাণ নয়, টেনিস কোর্ট সংষ্কার করা হচ্ছে। আর এসব বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের জানানো হয়েছে। ওরা বলেছে স্যার এটা করেন।

এসব বিষয়ে ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল আমিন সরোয়ার বলেন, ষাটের দশকে এখানে দুইটি টেনিস কোর্ট ছিলো। এখানে কারা কারা খেলত তা নিয়ে এক শিক্ষকের লেখা একটি বইও রয়েছে। সেই টেনিস কোর্ট উদ্ধারে সাবেক অধ্যক্ষ স.ম ইমানুল হাকিম চেষ্টা চালান। সেখানে ড্রেন, রাস্তা নির্মাণ করে এই টেনিস কোর্টকে পুনরুদ্ধার করেন। দ্বিজেন শর্মা ভিন্ন পার্টিশন করে বোটানিক্যাল গার্ডেনে কাজ করতো এবং টেনিস কোর্টে খেলাও করতো।

বর্তমান অধ্যক্ষ সাবেক অধ্যক্ষ’র যে কাজটি বাকি রয়েছে সেটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন। এখানে আমার সম্পৃক্ততার কিছু নেই। অন্যরা কেন আমার নামটি ব্যবহার করছে সেটা বুঝতে পারছি না।’

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ