৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

ডাক্তারের ধর্ষণের শিকার গৃহবধুর আত্মহত্যা

আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নওগাঁয় এক হাতুড়ে ডাক্তারের ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। হতভাগা গৃহবধূ খাদিজা আকতারের (৩০) আত্মহত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা নওগাঁ সদর থানার এসআই এমরান হোসেন বাদীপক্ষকে ৬-৭ লাখ টাকার বিনিময়ে মিমাংসার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার বিকালে গৃহবধূর স্বজনরা বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আলোচিত ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নারী ও নির্যাতন দমন আইনে না নিয়ে শুধু আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার (দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা) মামলা দেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আত্মহননকারী গৃহবধু খাদিজা আকতারের বড় জা (স্বামীর ভাবী) আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, নড়াইল জেলার নড়াগাতী উপজেলার কলাবাড়িয়া শিবপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ডা. হেলাল আহম্মেদ লিটন প্রায় ৫ বছর আগে নওগাঁ সদরের পাটালীর মোড় এলাকায় শাহীন হোসেনের বাড়ির দুটি ঘর ভাড়া নেন। সেখানে পাইলস্ কিউর সেন্টার খোলেন। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে আরজি নওগাঁ মধ্যপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী খাদিজা আকতার সংসারে অভাবের কারণে সেখানে আয়া কাম চেম্বার সহকারীর চাকরি নেন।

গত ১৮ জানুয়ারি বিকালে চেম্বারে আর কেউ না থাকায় ডা. লিটন তাকে ধর্ষণ করে। এরপর থেকে খাদিজা পরিবারের সদস্যদের এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। তিনি বিষয়টি শুধু বাড়িওয়ালা শাহীন হোসেনের ছেলেকে অবহিত করেন। তাকে বলে তিনি ধর্ষণের বিচার না পেলে আত্মহত্যা করবেন।

এরপর ২০ জানুয়ারি রাতে খাদিজা ঘরে বিষপান করেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর ভোরে তিনি মারা যান। খাদিজার ৫ বছর বয়সী একটি শিশু সন্তান আছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ব্যাপারে খাদিজার বাবা খলিলুর রহমান গত ২৩ জানুয়ারি নওগাঁ থানায় মামলা করতে যান। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হাইকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধনী) ২০০৩ আইনের ৯(৪)(ক)/৩০ ধারায় মামলা নিতে অনুরোধ করলেও তিনি শুধু আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নেন। পরবর্তীতে আসামিকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আরো অভিযোগ করা হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তা নওগাঁ থানার এসআই এমরান হোসেন মামলাটি ৬-৭ লাখ টাকায় মীমাংসার প্রস্তাব দেন। এতে তাদের মনে হয়েছে, পুলিশ মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা এজাহারটি সংশোধন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নেবার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এমরান হোসেন জানান, বাদীপক্ষ যেভাবে মামলা দিয়েছেন, আমরা সেভাবেই নিয়েছি। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডা. লিটন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেলে পরবর্তীতে মামলাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের ধারা যুক্ত করা হবে।

এছাড়া তিনি অর্থের বিনিময়ে মামলা মীমাংসার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেন, খাদিজার ৪-৫ জন আত্মীয়-স্বজন টাকার বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, বাদী যেভাবে মামলা দিয়েছেন সেভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা যোগ করা হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ