৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

তাড়াইলে শতবর্ষী কাচারি পুকুরটি এখন মরণফাঁদ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

মুকুট দাস,তাড়াইল(কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদর বাজারের শতবর্ষী কাচারি পুকুরটি দখলে-দূষণে ছোট হয়ে আসছে। এর ওপর নালা-নর্দমা, বাসাবাড়ি, দোকানপাটের ময়লা-আর্বজনা ও মানবর্জ্যে টইটম্বুর হয়ে আছে। ফলে স্বাভাবিক পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই কাচারি পুকুরটি ভরাট হয়ে বর্ষা মওসুমে দূষিত ও ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ পানি লোকালয়ে উঠে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বদলে গেছে পানির রঙ, পচা দুর্গন্ধে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে পুকুর পাড়ের বাসিন্দারা।

ঘাটের সিড়িঁগুলোতে প্রচুর আবর্জনা জমে পানি বিষাক্ত হয়ে যাওয়ায় পুকুরের মাছও মরে গেছে বলে জানান এলাকার বাসিন্দারা । সেগুলো পচে দুর্গন্ধময়, মশার কামড়ে অতিষ্ট করে তুলেছে পুকুর পাড়ের উপজেলা সদর ভূমি অফিস, ডাকঘর,বড় মসজিদের মুসল্লি ও বসবাসকারীদের। উপজেলা সদর বাজারে কাঁচাবাজারের নির্ধারিত স্থান থাকা সত্বেও বাজারের সদর রোড এবং কাচাঁরি পুকুর ঘাটের পাশে বিকাল হতেই রাত ১০ টা পর্যন্ত সবজি ও মাছের পসরা সাজিয়ে রাস্তার দু’পাশ জুড়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কাচাঁমাল ক্রয়-বিক্রয় করেন।এ কারণে কাঁচাবাজারের উচ্ছিষ্টাংশ পুকুরে ফেলার জন্য পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। যানবাহনও সদর রোডে চলাচল করতে দারুন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাচারি পুকুর ঘাটটিতে মাছের ময়লা, আবর্জনা চারদিকে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। দূষিত বর্জ্যরে দূর্গন্ধে ঘাটের দু’পাশের দোকানদার ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। চার পাশের দোকানিরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা সদর ভূমি অফিসের নায়েব নাসির উদ্দিনকে বারবার বলেছি, ঘাটের ওপর যেন কাঁচা বাজার নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা না বসতে পারে। এজন্য ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের দাবি সত্বেও আজ অবধি নায়েব এ ঘাটের তদারকির কোনো ব্যবস্থা করেননি।

যে যার মতো ময়লা-আর্বজনা ও মানববর্জ্যে সয়লাব করে রাখায় প্রতিনিয়তই দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মহাজন সদর বাজার ব্যবসায়ীদের গোসল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সারার জন্য প্রায় বছর তিনেক আগে কাচারি পুকুরের এ ঘাটটি ইউনিয়ন পরিষদ বাজার উন্নয়নের বরাদ্দ থেকে লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করেন। ঘাটের পাশের মুদি দোকানদার প্রদীপ কুমার সরকার, হোটেল ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন ও কৃষ্ণ কুমার পাল জানান, দূর্গন্ধে দোকানে থাকা যায় না।

তাই দোকান থেকে বের হয়ে দূরে গিয়ে দাড়িঁয়ে থাকি, ক্রেতারা এলে দোকানে আসি। দোকানের ভেতরে বসে দুপুরের খাবার খাওয়া যায় না, বমি আসে। উপজেলা সদর বাজারের মেইন রোডের পাশেই পুকুর ঘাটটির ওপর সবসময় বর্জ্য পড়ায় দূর্গন্ধের কারণে ক্রেতারাও আসতে চান না। বাজারের ব্যবসায়ীদের গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করার সুবিধার্থের এ ঘাটটি এখন যেন আমাদের মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে। এমন অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীসহ সব পেশার মানুষ এ প্রতিনিধির কাছে।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ভূমি অফিসের নায়েব নাসির উদ্দিন বলেন, কাঁচারি পুকুর ঘাটটির আয়তন ১ একর ৮১শতাংশ। পুকুরটি দেখাশুনা করার দায়িত্ব ভূমি অফিসের। আমি অনেকবার পদক্ষেপ নিয়েও এলাকার বাসিন্দাদের অসহযোগিতার অভাবে মূল ধারার ফিরিয়ে আনতে পারছি না । পুকুরটিকে রক্ষা করার জন্য বনিক সমিতির লোকজনকে বারবার বলেছি, তারা যেন কাঁচা বাজার ও মাছ বিক্রেতাদের ঘাটের ওপর বসতে না দেয়। কিন্তু তারা আমার এ কথার কোনো কর্ণপাতই করছেন না। এ ব্যাপারে তাড়াইল সদর বাজার ব্যবসায়ী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কার্তিক কুমার দত্ত বলেন, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ করার জন্য এ ঘাটটি নিমার্ণ করা হয়।কিন্তু সদর বাজারের ব্যবসায়ীদের অবহেলার কারণে শতবর্ষী কাচারি পুকুরটি এখন তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তিনি আরো বলেন, সদর বাজার বণিক সমিতির পক্ষ থেকে পুকুর এবং ঘাটটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে। তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোসা. লুৎফুন নাহার বলেন, সদর ভূমি অফিসের নায়েব নাসির উদ্দিন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মহাজন ও সদর বাজার বনিক সমিতির সাথে কথা বলে অতিদ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ