২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হিসাব রক্ষক জুয়েল

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

লিয়াকত হোসেন জুয়েল ২০০৩ সালে স্বাস্থ্য বিভাগের (রাজধানীর মহাখালি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল) হিসাব সহকারী পদে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরির মাত্র ১৫ বছরেই তিনি শত কোটি টাকার সম্পদ। জুয়েল ও তার স্ত্রী লাকি আক্তার চৌধুরীর নামে ফরিদপুরে রয়েছে অঢেল সম্পদ।এর সূত্র ধরে গত ৩১ জানুয়ারি তার সম্পদের হিসাব সংক্রান্ত বিষয়ে দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

ফরিদপুরে লিয়াকতের পরিবারিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, লিয়াকত বেশ কয়েকটি আলিশান বাড়ি, গাড়ি, ব্রিক ফিল্ড, জমি, কার্গো জাহাজ ও বাগান বাড়ির মালিক।যেগুলো স্ত্রী, বোন, শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ফরিদপুর জেলা সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ। শহরের টেপাখোলায় লক্ষীপুর এলাকায় আলিশান একটি বাড়ি রয়েছে তার স্ত্রীর নামে। একই এলাকার ফরিদাবাদে মাহি মাহাদ ভিলা নামে রয়েছে অপর একটি দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। সেখানে বসবাস করেন লিয়াকত হোসেন জুয়েলের শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

এছাড়া শহরতলীর বায়তুল আমান এলাকায় রয়েছে ৫ কাঠার একটি আবাসিক প্লট, সেটিও তার স্ত্রীর নামে।

সূত্র আরও জানায়, ফরিদপুরের নর্থ-চ্যানেল গোলডাঙ্গী চরে এলএন্ডএমএম নামে রয়েছে লিয়াকতের একটি ইট-ভাটা। এছাড়া সিএন্ডবি ঘাটের ওপারে নাজিরপুরে এএন্ড আর ব্রিকস নামে আরেকটি ইটভাটা রয়েছে তার, সেটি বড় বোনের নামে করা হয়।

এদিকে, সিএন্ডবি ঘাটের বাজারে রয়েছে ১৭ শতাংশ জমিতে আরও একটি দোতলা ভবন। ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষিপুরে ২৪ কাঠা জমিতে রয়েছে একটি বাগান বাড়ি। শহরতলীর আমদপুর এলাকার বেরহমপুর মৌজায় ১৭ বিঘা জমি রয়েছে, সেটিও তার স্ত্রীর নামে। ছোট কার্গো জাহাজ রয়েছে ১৬টি, যা তার শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের নামে রয়েছে।

এছাড়া পরিবারিকভাবে ব্যবহার করার জন্য লিয়াকত হোসেন জুয়েলের রয়েছে আধুনিক মডেলের প্রিমিও ব্রান্ডের তিনটি প্রাইভেটকার।

লিয়াকত হোসেন জুয়েলের ভাই বেলায়েত জানান, গত ৩১ জানুয়ারি দুদক তাদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল। সেখানে তারা পারিবারিক বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।

এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের উৎস জানার জন্য গত ৩১ জানুয়ারি জুয়েল ও তার স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল দুদক। জুয়েলের ভাই বেলায়েত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুদক আমাদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল। সেখানে আমরা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সম্পদের তথ্য জমা দিয়েছি। তিনি নিজের পরিবারের এসব সম্পদ থাকার কথাও স্বীকার করেছেন।

দুদকের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ফরিদপুর জেলার সভাপতি অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, যারা অসৎভাবে অর্থ উপার্জন করেছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা দরকার। এই দুষ্টচক্রকে ঠেকানো না গেলে রাষ্ট্র ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, একজন হিসাবরক্ষক হয়ে এত সম্পদ কীভাবে অর্জন করা যায়, তা নিয়ে সবারই সন্দেহ জাগবে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি ।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ