২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

সিদ্ধিরগঞ্জে নববধূর মৃত্যুতে রহস্য ! (অডিও সহ )

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রাশেদুল কবির অনু , নারায়ণগঞ্জ (সিদ্ধিরগঞ্জ ) প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নববধূর মৃত্যুতে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ঐ নববধূর স্বামী শহীদুলকে (২৭) সন্দেহজনক ভাবে আটক করা হলেও এখনও পর্যন্ত সদ্য বিয়ে করা তার স্ত্রী নাঈমার (২৩) মৃত্যুর কারন উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) বেলা সাড়ে ১১টায় নাসিক ৬নং ওয়ার্ডস্থ সুমিলপাড়ার নতুন বাজার এলাকাধীন হান্নান মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে ওড়না দিয়ে দুই পা ও মুখ বাধা অবস্থায় ঐ গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

শহীদুলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারির ১৮ তারিখ বিয়ের জন্য বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানাধীন মাদারতলা গ্রামের মোল্লা বাড়িতে নাঈমাকে দেখতে যায় শহীদুল। ঐ দিনই তরিঘরি করে নাঈমার পরিবার কাজী ডেকে শহীদুলের সাথে বিয়ে সম্পন্ন করে। এর দুই দিন পর শহীদুল তার বিয়ে করা নতুন বধূ নাঈমাকে সেখানে রেখেই নারায়ণগঞ্জ ফিরে আসে। কথা ছিল ফেব্রুয়ারীর ২০ তারিখ আনুষ্ঠিকভাবে নাঈমাকে ঘরে তুলবে শহীদুল। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসার এক সপ্তাহের মধ্যেই শহীদুলের শ্বশুর দেলোয়ার মোল্লা জরুরী ভিত্তিতে বাগেরহাট যাওয়ার জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খবর দেন শহীদুলকে।

সেখানে গিয়ে বখাটে ছেলেরা নাঈমাকে উত্যক্ত করছে বলে তার শ্বশুর বাড়ীর সূত্রে জানতে পারে শহীদুল। পরে ঢাকায় আসতে রাজি না থাকা সত্ত্বেও নাঈমার পরিবার অনেক বুঝিয়ে শহীদুলের সাথে নারায়ণগঞ্জে পাঠায় নাঈমাকে। ৩১ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ এসে বড় ভাই আমিনুলের বাসায় উঠে পরদিন ১ ফেব্রুয়ারী হান্নানের বাড়ীতে একটি রুম ভাড়া নেয় শহীদুল। এর কিছুদিন পর হঠাৎ করেই নাঈমা তার স্বামী শহীদুলের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। শহীদুলের বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও বোন এর কারন জানতে চাইলেও কোন ধরনের সমস্যা হয়নি বলে জানায় নাঈমা। এভাবে স্বামীর সাথে কথা বলা থেকে তিন দিন বিরত থাকে সে।

শহীদুলের বড় ভাই আমিনুল ইসলাম মাসুম তার স্ত্রী, বোন ও সন্তান নিয়ে একই এলাকায় আলমগীর হোসেন মালিকানাধীন সিয়াম সামিয়া নামক ৭ তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে ভাড়া থাকে। শহীদুল ও তার স্ত্রী নাঈমা আলাদা বাসায় ভাড়া থাকলেও খাওয়া-দাওয়া করতো বড় ভাই আমিনুলের বাসায়। শহীদুল আদমজী ইপিজেডে ডিএনভি নামক পোশাক কারখানায় সুইং অপরেটর হিসেবে ৮ বছর যাবৎ কর্মরত। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার ৬ ফেব্রুয়ারী সকালে শহীদুল কাজে যাওয়ার পর তার স্ত্রী নাঈমা ভাশুর আমিনুলের বাসায় আসার পর থেকেই একাকীত্ব সময় কাটায়। কারও সাথে বেশি কথা বলেনি। দুপুরে তার স্বামী মধ্যাহ্নের বিরতিতে বাসায় এসে গোসলের উদ্দেশ্যে বাথরুমে যায়। এ সময় তার স্ত্রী নাঈমা শহীদুলের মোবাইল ফোন থেকে একটি নাম্বারে (০১৬২০-৪২৪৮৪৫) কথা বলে। মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড অটোভাবে চালু থাকায় যা পরবর্তীতে মোবাইলে ৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড ও ৩ মিনিট ১ সেকেন্ডের দুইটি রেকর্ড থেকে শহীদুল ও তার পরিবার জানতে পারে।
শহীদুলের পরিবার সূত্রে আরো জানা যায়, আদমজী সোনামিয়া বাজারে ভাই ভাই ফ্যাশন নামে তাদের একটি কাপরের দোকান আছে।

দোকানটি আমিনুল ও শহীদুল দুই ভাই পরিচালনা করে। অন্যান্য দিনের মতো ওইদিন বিকেল ৪টায় কর্মস্থল থেকে ছুটি হয়ে বাসায় এসে তাদের কাপরের দোকানে চলে যায় শহীদুল। দোকান থেকে রাতে ফিরে এসে রাতের খাবার খেয়ে তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বাসায় চলে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে শহীদুলের স্ত্রী বড় ভাইয়ের বাসায় না আসায় সকাল সাড়ে দশটায় শহীদুলের বাসায় গিয়ে ঘরের দরজা চাপানো দেখতে পায় আমিনুলের স্ত্রী মোসাঃ খাদিজা। পরে দরজা মেলে ঘরের আড়ার সাথে পা ও মুখ ওড়না দিয়ে বাধা অবস্থায় দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত নাঈমার লাশ দেখতে পেয়ে বাড়িওয়ালা ও আশেপাশের লোকজনকে ডাক দেয়। পরে শহীদুলকে ফোন করলে সে কর্মস্থল থেকে বাসায় আসে।
এদিকে শহীদুলের মোবাইল ফোনে প্রাপ্ত দুটি রেকর্ড থেকে জানা যায়, বিয়ের পূর্বে নাঈমার সাথে অন্য কারও সাথে সম্পর্ক ছিল।
আর এ জন্যই হয়তো নাঈমাকে তার পরিবার তরিঘরি করে শহীদুলের সাথে বিয়ে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ পাঠাতে বাধ্য করে। যদিও নাঈমার বাবা দেলোয়ার মোল্লা এ কথা অস্বিকার করেন। তিনি জানান, তার মেয়ে নাঈমা পূর্ব থেকেই মানসিক ভাবে অসম্পূর্ণ। এর আগে খুলনা থাকাকালীন দুইবার তার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। নাঈমার বাবা দেলোয়ার মোল্লার ভাষ্যমতে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। যদিও পুলিশ সূত্রে জানানো হয় ঘটনাটি একটি হত্যাকান্ড। আর এ কারনে সন্দেহ ভাজন শহীদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শাহীন শাহ পারভেজ চ্যানেল ৩৬৫ কে এ কথা জানান।

গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় পা ও মুখ কালো কাপড় (ওড়না) দিয়ে বাধা ছিল। এছাড়া তখন ঘরের দরজাও খোলা ছিল। তাই গৃহবধূ নাঈমার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। নাঈমার গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। বাড়ির লোকজন সন্দেহ করছে স্বামী শহিদুল ইসলামও তাকে হত্যা করে ঝুলিয়েও রাখতে পারে। তাই ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নাঈমার মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নাঈমা আক্তার বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানাধীন মাদারতলা গ্রামের দেলোয়ার মোল্লার মেয়ে। আটক শহিদুল ইসলাম খুলনার রুপসা থানাধীন তালিমপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ