৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছে দেড় হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ভ্রমণে এসে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন দেড় হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) টেকনাফ থেকে কোনও জাহাজ সেন্টমার্টিনে আসতে না পারায় দ্বীপে আটকে পড়েছেন তারা। তবে পর্যটকদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসন।
এর আগে সকালে পর্যটকবাহী সাতটি জাহাজ প্রায় তিন হাজার পর্যটক নিয়ে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন রওয়ানা দিলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নাফনদীর মাঝপথ থেকে আবার জেটিতে ফিরে এসেছে।
পর্যটকদের আটকা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, ‘দ্বীপে ভ্রমণে এসে দেড় হাজারের ও বেশি দেশি-বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের বেশির ভাগেরই আজ দ্বীপ থেকে টেকনাফে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে আজ কোনও পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে আসতে পারেনি। সকাল থেকে জেটি ঘাটে জাহাজের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অনেক পর্যটক। তাদের অনেকের টাকার সংকট রয়েছে বলেও শুনেছি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া আটকা পড়া পর্যটকদের কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।’
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আচমকা ধমকা হওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সমুদ্রে সব ধরনের নৌযান চলাচল নিষেধ করা হয়েছে।
পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া সব পর্যটকবাহী জাহাজ নাফ নদী থেকে আবার টেকনাফ জেটিতে ফেরত এসেছে। তবে এর আগে এসব জাহাজে করে দ্বীপে ভ্রমণে যাওয়া হাজারও পর্যটক সেখানে আটকা পড়েছেন। তাদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।’
ঢাকার সাভার থেকে দ্বীপ ভ্রমণে এসে আটকা পড়া রণজিত বলেন, ‘পরিবার নিয়ে গত শনিবার সকালে জাহাজে করে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে বেড়াতে এসেছি। সোমবার দ্বীপ ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্বীপে কোনও জাহাজ না আসায় এখানে আটকা পড়েছি। দ্বীপে সবকিছুতে এখন অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।’
সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরির্দশক সেকান্দর আলী জানান, ‘আজ জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তারা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেটি দেখা হচ্ছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ‘সকালে পর্যটকবাহী সাতটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা করে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে নাফনদীর মাঝপথ থেকে জাহাজগুলোকে ঘাটে ফেরত আনা হয়েছে। তবে এর আগে দ্বীপে বেড়াতে যাওয়া দেড় হাজারের মতো পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন। তারা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খোজঁ খবর নেওয়া হচ্ছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ