৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

শিগগিরই ব্রহ্মপুত্র খননের টেন্ডার, কুড়িগ্রামের চিলমারী বন্দর চালুর অপেক্ষা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের চিলমারী নৌবন্দরটি চালুর ব্যাপারে বেশ কয়েক বছর ধরেই নানা উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতির কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু আজো এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্প চুড়ান্ত। শিগগিরই শুরু হবে নদী ড্রেজিং ও বন্দর উন্নয়নের কাজ।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যতম পিছিয়ে পড়া এলাকা ভারত সিমান্তবর্তী কুড়িগ্রাম জেলাকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়েছে সোনাহাট স্থলবন্দর। চিলমারী নৌবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে। এর মধ্যে প্রথমে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্য ফিরিয়ে এনে এর সঙ্গে সংযুক্ত নদীগুলোর চ্যানেল বের করা হবে। এর পরই শুরু হবে নৌবন্দরটি পুনরায় চালুর কাজ। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও ভারত চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। এখন টেন্ডারের অপেক্ষা।

চিলমারী বন্দর দিয়ে একসময় হাজার হাজার মণ পাট, ধান, চালসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বড় বড় জাহাজ চলাচল করত। ব্রিটিশ আমল থেকে কলকাতা, গৌহাটি ও আসামের ধুবড়ি পর্যন্ত নৌ-যাতায়াত ছিল। বন্দরটি ঘিরে গড়ে উঠেছিল পাট, সরিষা, ধান, গম, বাদাম, তিসি ও ভুট্টার বড় বড় গোডাউন। ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য বিআইডব্লিউটিএ এখানে পাইলট বিট ও এসএসবি স্টেশন স্থাপন করে।

জানা যায়, বন্দরটি যখন কর্মব্যস্ত ছিল তখন পাট ক্রয়, বাছাই ও বেল তৈরির কাজে নিয়োজিত ছিলেন ৯০০ শ্রমিক। এর বাইরে শত শত বেপারি, কৃষক ও ফড়িয়াদের আগমন হতো।

১৯৬৭ সালের দিকে বন্দর এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন তীব্র হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বন্দর। লুটপাট হয়ে যায় অনেক পাট কোম্পানির মালপত্র। স্বাধীনতার পর বন্দরের তিন কিলোমিটার দূরে রমনা বাজারে কয়েকটি গুদাম ও অফিস করে ফের সীমিত আকারে শুরু হয় পাটের কারবার।

সর্বশেষ ২০০৯ সালে চিলমারী বন্দরের উজান ও ভাটিতে ৮০ কিলোমিটার নৌরুটে নাব্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ সমীক্ষা চালায়। পরে আর অগ্রগতি হয়নি। ফলে ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দর মৃত বন্দরে পরিণত হয়।

তবে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিলমারী সফরে এসে এক জনসভায় এটিকে পূর্ণাঙ্গ নৌবন্দর ঘোষণা করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে সে মাসেই চিলমারীর রমনা শ্যালো ঘাটে পন্টুন স্থাপন করে বিআইডব্লিউটিএ নদীবন্দর উদ্বোধন করেন তত্কালীন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। এরপর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বীর বিক্রম জানান, চিলমারী নৌবন্দর চালু হলে বিভিন্ন নৌরুটে এ বন্দরে সহজে পণ্য আনা-নেয়া করা যেত। তখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এ রুট ব্যবহার করবেন। এতে জেলায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, মানুষের সামনে উপার্জনের নানা ক্ষেত্র খুলে যাবে। তিনি বলেন, আমার জানামতে দ্রত ড্রেজিংসহ বন্দর চালুর দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সেলফোনে সাংবাদিককে বলেন, বন্দর উন্নয়নে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। শিগগিরই এবং অতিসত্বর নদী ড্রেজিং এবং বন্দরের কার্যক্রমও শুরু হবে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, ব্রহ্মপুত্র খননের প্রাথমিক সব কাজ সম্পন্ন, এখন টেন্ডারের অপেক্ষা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ