২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

গলাচিপায় লঘু চাপের প্রভাবে বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আলু ও তরমুজ ক্ষেত

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

সাইমুন রহমান এলিট, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ উপকূলীয় এলাকায় তিনদিন ধরে বয়ে যাওয়া লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে তিনশ হেক্টর জমির আলু ও সাত হাজার ছয়শ হেক্টর জমির তরমুজ ক্ষেত। এদিকে তলিয়ে যাওয়ার পরেও আশা ছাড়েনি কৃষকরা। ফসল বাঁচিয়ে রাখতে ক্ষেত থেকে পানি অপসারণ করতে আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এতে আলু ও তরমুজের গড়ে ১০ থেকে ১৫ভাগ ক্ষতি হতে পারে। কৃষকরা যদি এখন ঠিকমতো ক্ষেতের পরিচর্যা করতে পারে মোটামুটিভাবে লোকসান পুষিয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার সকালে সরেজমিনে গলাচিপার বিভিন্ন ইউনয়ন ঘুরে এসব তথ্য জানাগেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত সোবার থেকে লঘু চাপের প্রভাবে ভারি বর্ষণে এবারও তলিয়ে গেছে কৃষকের আলু ও তরমুজ ক্ষেত। শেষ সময় প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের কারণে অনেকটা দিশেহারা হয়ে গেছে কৃষকরা। এবার আলু চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল আটশ হেক্টর কিন্তু আলু চাষ হয়েছে মাত্র তিনশ হেক্টর জমিতে। সাধারণ কৃষকরা এর আগে পর পর তিন বছর ধরে অতিবৃষ্টি ও পোকার আক্রামণে লোকসান দিয়ে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কৃষকরা। গলাচিপা উপজেলার মুরাদ নগর গ্রামের আলু চাষী মুসব্বর হাওলাদার বলেন, ‘এ বছর দুই একর জমিতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করে আলু চাষ করেছি। এক সপ্তহের মধ্যে আমরা ফসল ঘরে তুলতে পারতাম। কিন্তু হঠাৎ করে তিনদিন ধরে বৃষ্টিতে ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখন ক্ষেতেই আলু রয়ে গেছে। জানিনা আলুর কি অবস্থা হবে।’

একই এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,‘তিন একর জমিতে বিএডিসির সহযোগিতায় আলু চাষ করেছি। বৃষ্টিতে ক্ষেত তলিয়ে রয়েছে। এ অবস্থা আর কয়েকদিন থাকলে আলুতে ফাটল ধরে পচন ধরবে। এ নিয়ে আমি পর পর তিনবার লোকসান দিয়েছি। এখন ভাবতে হবে আর আলু চাষ করবো কি-না। ক্ষেতের সেচ দিয়ে পানি সরানোর জন্য করার চেষ্টা করছি।’

এদিকে গলাচিপা ইটবাড়িয়া গ্রামের সোহাগ ও রাসেল জানান, এবছর বছর আড়াই একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছে। এতে তাদের প্রায় দুই লাখ টাকার উপরে খরচ হয়েছে। এখনও ঠিক করে বলতে পারছি না কি পরিমাণ ক্ষতি হবে।’

পৌর এলাকর চাষী ইমন হাওলাদার জমি ভাড়া নিয়ে চিকনিকান্দি ইউনিয়নের মধুপরা চানপুরা গ্রামে তরমুজ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ তরমুজ চাষ করতে গিয়ে ২২ একর জমিতে প্রায় ১৭ লাখ টাকা এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে। আজ রোদ উঠেছে। কিন্তু ফলসহ গাছের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। যদি এভাবে গাছের চারা শুকাতে থাকে তাহলে ৭০ ভাগ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমি বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখিছি। তরমুজের বেশি একটা ক্ষতি হবে না। নিচু জমিতে পানি জমিয়ে থাকলে সেখানে সমস্যা থাকবে। ফাংগাসে আক্রমণ করে যাতে চারার পচন বা ঢলে না পরে যায় সে জন্য কৃষককে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। অপর দিকে আলু এখন পচন দেখা না দিলেও ৪-৫ পরে হয়তো ১০ ভাগ ক্ষতি হতে পারে। তবে সব কিছুই বলা যাবে আগামী এক সপ্তাহ পরে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ