২৪শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

ধর্ষকের হাত-পা ধরে ঘরে ফিরতে হয় মেয়েটিকে

আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

এক বছরের পরিচয় নাহিদ পাটোয়ারীর (৩২) সঙ্গে। সেই সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যোগাযোগও ছিল তাদের। গত ২৭ আগস্ট (মঙ্গলবার) দুপুর ২টার পর মোবাইলে কল করে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে ডাকা হয় তরুণীকে। ইন্টারভিউ বোর্ডে দুই একটি প্রশ্নের পরই সিগারেট আর ওয়াইন অফার করা হয়। তাতে না করলে কৌশলে কোকাকোলার সাথে ওয়াইন খাওয়ানোর পর তরুণীকে অজ্ঞান করা হয়। এরপর প্রথমে ফাহিম আহমেদ ফয়েজ (৩০) ও পরে নাহিদ পাটোয়ারী ধর্ষণ করে তরুণীকে। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করে বাসায় ফেরেন চাকরিপ্রত্যাশী তরুণী।

গত মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা থানাধীন ৩নং সড়কের ৩৫/১/বি ভবনের ৫তম তলায় হেল্‌থ ভিশন নামে এক অফিস কাম বাসায় চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী।

ঘটনার পর বুধবার দিবাগত রাতে ফাহিম আহমেদ ফয়েজ এবং নাহিদ পাটোয়ারী নামে অভিযুক্ত দুইজনের নাম উলেস্নখ করে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ৪৯। ওই মামলার এজাহারে এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী তরুণী।

গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গত রাতেই জড়িত অভিযোগে ফাহিম আহমেদ ফয়েজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে আরেক অভিযুক্ত নাহিদ পাটোয়ারী পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এক বছরের পরিচয় নাহিদ পাটোয়ারীর সঙ্গে।

হসেই সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যোগাযোগও ছিল। গত মঙ্গলবার দুপুর ২টার পর ফোনে কল করে ওই তরুণীকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকে।

কল পেয়ে মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে শ্যামলী ৩নং সড়কের ৩৫/১/বি ভবনের ৫তম তলায় হেল্‌থ ভিশন নামে অফিস কাম বাসায় যান ওই তরুণী। শ্যামলী প্রধান সড়ক থেকে ওই তরুণীকে রিসিভ করে নিয়ে যায় নাহিদ। একটি চেয়ারে বসতে দিয়ে চাকরিবিষয়ক প্রশ্ন করে। এরপর সিগারেট ও ওয়াইন খাওয়ার অফার করে নাহিদ। খেতে রাজি না হওয়ায় কৌশলে কোকাকোলার সঙ্গে ওয়াইন মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এরপর শারীরিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে প্রথমে ফাহিম আহমেদ, পরে নাহিদ ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনায় চেতনা হারায় তরুণী। চেতনা ফেরাতে তরুণীর চোখেমুখে পানি দেয়া হয়। পরে ধর্ষণে জড়িত দু’জনকে হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করে সন্ধ্যার পর বাসায় ফেরেন চাকরিপ্রত্যাশী তরুণী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্যামলী ৩নং সড়কের ৩৫/১/বি ভবনের গিয়ে জানা যায়, রাতে একজনকে আটক করে নিয়ে গেলেও আরেক জন পলাতক। বাসার মালিক না থাকায় মালিকের স্ত্রী ও পরিবার কথা বলতে রাজি হননি।

তবে ভবনের কেয়ারটেকার জানান, ৫ম তলার ওই কক্ষটি পরিবার নিয়ে থাকার জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন ফয়েজ। কিন্তু সেখানে তারা বাসার পাশাপাশি অফিসও চালিয়ে আসছিল। ফয়েজ হেপাটাইসিস বি টিকা বিক্রি ও বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করত বলে জানান কেয়ারটেকার।

ঘটনাস্থলেই কথা হয় ঘটনার তদন্তকারী শেরেবাংলা নগর থানার এসআই তৌহিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ গত মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে ঘটনা। আমরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেটা যাচাই বাছাই চলছে। প্রাথমিকভাবে ভবনটিতে পলাতক নাহিদের সাথে ওই তরুণীকে ঢুকতে দেখা গেছে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুনশী বলেন, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত দু’জনের মধ্যে ফয়েজ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাহিদ নামে আরেক আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ওসি বলেন, ফয়েজকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফয়েজকে সোপর্দ করা হবে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে আর কে বা কারা জড়িত।

তিনি বলেন, হেলথ ভিশন নামে ওই প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব সম্পর্কে তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে সব জানা যাবে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হতে ওই ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক নাহিদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ