২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

মাদক চোরাচালানে রোহিঙ্গারা, মিয়ানমার থেকে আনছে ইয়াবা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

মাদক চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। সীমান্তের ১১টি এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে গিয়ে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে তারা। কেনাবেচার জন্য উখিয়া ও টেকনাফে গড়ে তুলেছে প্রায় পাঁচশ’ আস্তানা। এছাড়া, সমুদ্রপথে মানবপাচারে জড়িত কয়েকটি চক্র। এসব অপরাধ ঠেকাতে এবং শরণার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রোহিঙ্গা শিবিরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের চৌত্রিশটি শিবিরে এখন বসবাস করছে ১২ লাখ রোহিঙ্গা। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইয়াবার কারবার।

উখিয়া ও টেকনাফের এগারোটি সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের মংডুতে যাতায়াত করছে রোহিঙ্গারা। সেখান থেকে ড্রামে ভরে নাফ নদী দিয়ে লাখ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে আসছে তারা। পরে, তা চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা শিবিরের প্রায় পাঁচশ আস্তানায়। সেখান থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। দুই বছরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে অন্তত ১৫ রোহিঙ্গা ইয়াবা ব্যবসায়ী।

মানবপাচারেও জড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গাদের বেশ কয়েকটি চক্র। উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে নিরীহ শরণার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে তারা। গেল এক বছরে গ্রেপ্তার হয়েছে অর্ধশতাধিক মানব পাচারকারী। উদ্ধার হয়েছে সাড়ে চারশ রোহিঙ্গা।

পুলিশ বলছে, সীমিত জনবল দিয়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গার গতিবিধি নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই সুযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার চেষ্টা করছে তারা। সেজন্য রোহিঙ্গা শিবিরগুলোকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আপাতত রোহিঙ্গাদের শিবির এলাকা ছেড়ে যাওয়া ঠেকাতে তল্লাশি চৌকি, যৌথ টহল ও ভ্রাম্যমাণ দল আরও বাড়াচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ