২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

১৬ বছরেও সংযোগ সেতুর রাস্তার বেহাল দশা!

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

দীর্ঘ ১৬ বছরেও সংযোগ সেতুর রাস্তা ঠিকমতো কাজে আসছে না। সংস্কারের পর সংস্কার চলছে কিন্তু অবস্থা একই থেকে যাচ্ছে। প্রতি বছরই বন্যার পানিতে সংযোগ রাস্তার ভাঙ্গছে। আর প্রতি বছরই তা সংস্কার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিন্মমানের কাজ,বছরের পর পর এমনভাবে কাজ করছে স্থানীয় প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

জানা যায়, ২০০৩ সালে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর মাঝখানে ২১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিবনদীর বিলকুমারী বিলে, যা তানোর ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোহনপুরের সংযোগ সেতু। দুই পারের মানুষের সেতুবন্ধনে যেমন সেতুটি ভূমিকা রেখে চলেছে তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু যাতায়াতের জন্য সেতুর বেহাল রাস্তা চরম দুর্ভোগে ফেলছে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষকে।

সেতুর এক পাশে পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজার, অন্যপাশে মোহনপুর উপজেলার শ্যামপুর বাজার। দুই এলাকার মানুষ যাতে সহজেই বাজারে যাতায়াত করতে পারেন, সে কারণে এক যুগের বেশি সময় আগে এ নদের উপর নির্মাণ করা কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু। কিন্তু সেই সেতুর সংযোগ রাস্তার মেরামত কাজ চলছে সেই থেকেই। প্রতি বছরই নদের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় রাস্তা মেরামত কাজও। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এবারের বন্যাতেও ভেঙেছে সংযোগ রাস্তা। স্থানীয়রা জানান, ১৬ বছর আগে শিব নদের বিলকুমারীর উপর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের মন্ত্রী (প্রয়াত) ব্যারিস্টার আমিনুল হক। এরপর নানা কারণে আটকে যায় নির্মাণ কাজ। পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর মাঝখানে ২১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি আলোর মুখ দেখে ২০১৩ সালে। ওই সময় সেতুটি সম্পন্ন হলেও ছিল না রাস্তা।

কিন্তু ইট বিছানো সংযোগ সড়ক থাকায় ওই সেতুতে ভরসা রাখতে পারেননি বাস ও ট্রাকের চালকরা। ফলে সেতুটি দিয়ে মোটরসাইকেল, সাইকেল ও ভ্যানসহ ছোট যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু নদের পানিতে প্রতিবছরই সংযোগ সড়কটি ভেঙে যায়। আবার সড়কটি সংস্কারে ব্যয় হয় এলজিইডির। এবারও নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন ধরেছে সড়কটিতে। ফলে দেড় কিলোমিটার সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করেছে এলজিইডি।

তানোর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দেড় কিলোমিটার সড়কটিতে বালু, জিও ব্যাগ, সিমেন্ট দিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতর থেকে এ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ফলে এর চেয়ে বেশি তথ্য তার কাছে নেই। প্রতি বছরই ওই সড়কটির সংস্কার কাজ করা হচ্ছে কেন জানতে চাইলে এই প্রকৌশলী কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করা করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ