১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

“অ্যাডাম ইডেন পার্কে” চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড, হয়রানি শিকার দর্শনার্থীরা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরিশাল কির্তোনখোলা নদীর পাশ ঘেষে নির্মিত হয়েছে “অ্যাডাম ইডেন পার্ক” । দর্শনার্থীদের জন্য নির্মান হয়েছে নদীর পাড়ের মনরোম সৌন্দর্য উপভোগের জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছে দর্শনার্থীরা। যাতায়াতে সুব্যবস্থা না থাকায় নদী পথে ট্রলারে যেতে হয় সেখানে। সেই সুযোগে পার্ক কর্তৃপক্ষ সেখানে প্রবেশের আগেই খাবার অর্ডারের নিয়ম করেছে। খাবারের অর্ডার না দিলে ঢুকতে দেয়া হয়না পার্কে। ফলে অধিকাংশ দর্শনার্থী বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনেকেই ওখান থেকে ফিরে আসলেও অনেকে বাধ্য হয়ে খাবারের অর্ডার দিয়ে ঘুড়ে পার্কে। এছাড়াও অবাধে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড। পার্কের পূর্ব পাশটা শুনশান থাকায় অবাধে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে যুবক-যুবতি। প্রতিনিয়তই অস্বস্তির মধ্যে পড়ছে পরিবার নিয়ে দুর-দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বাইরে থেকে আসা মহিলারা স্থানীয় যুবকদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নিগৃত হচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এই পার্কটিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে। পিকনিকের জন্য বিভিন্ন স্থান হতে আসে দর্শনার্থীরা। সারাদিন ব্যাপী “অ্যাডাম ইডেন পার্ক” পরিদর্শন অব্যাহত থাকে স্কুল কলেজগামী যুবক-যুবতীদের।

পার্কের মধ্যে রয়েছে গাছের সারি। রয়েছে কিছু ঝোপ-ঝাড়। এসব নির্জন স্থানে চলছে অশ্লীলতাপনা। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও-ছবি দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। (নবিন নামের এক ভূক্তভোগী তার প্রেমিকাকে নিয়ে ঘুড়তে গেলে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন)

সেখানে ঘুড়তে আসা সজিব, শাকিল, হাসান, রুবেল, তরিক, তারা এ প্রতিবেদককে বলেন, না জেনে পার্কে ঘুড়তে এসে খাবারের অর্আরের কথা শুনেই বিপাকে পড়ে গিয়েছি। এরকম নিয়ম জানলে আসতাম না। ট্রলারে এসে বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে পার্কে ঘুরতে থাকি। এরমধ্যে কয়েকজন স্থানীয় যুবক এসে ধাক্কা দিয়ে বলে “এই চোখের থেকে সানগ্লাস খুলে হাতে রাখ। সানগ্লাস খুলতে দেরি করায় আমাদের গালি দেয়। তারা কোন মেয়েকে দেখলে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে। কিছু বলতে গেলে তারা বলে, বাইরে বের হ, তারপর দেখি, তোদের কোন বাপ আছে”।

এ ব্যাপারে “অ্যাডাম ইডেন পার্ক ম্যানেজার ফজলে রাব্বি অনক বলেন, ওটাতো ফ্রি সার্ভিস না। তাই বলা হয়েছে আপনারা খান। এতো টাকা খরচা করে ফ্রি সার্ভিস দেয়া যায়না। আমাদের স্টাফদেরও বেতন দিতে হয়।

স্কুল কলেজগামী যুবক-যুবতীদের অবাধ বিচরনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, পরীক্ষা থাকলে তাদের আসতে নিষেধ করা হয়েছে।

গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও-ছবির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কিছু জানা নেই। আর এমনটা ঘটেনি কখনো।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ