১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বরিশালে মূর্তিমান আতঙ্ক মুন্না মোল্লা!

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

মাদকদ্রব্য, যৌন ও জুয়ার কারবার, জমি দখলের সঙ্গে জড়িত তিনি। আর হামলা-জখমের অভিযোগ তো আছেই। মুন্না মোল্লা ওরফে নূরে আলম সম্পর্কে এ হলো স্থানীদের ভাষ্য। একে দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি কতটা ভয়ংকর। বরিশাল নগরীর গড়িয়ারপাড় এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক তিনি।

মৃত জল কাদের মোল্লার ছোট ছেলে মুন্না মোল্লা গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী বাহিনী, ছিনতাই, চাঁদাবাজি , মাদকের গডফাদার খ্যাত কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ জনগণ।

বড় ভাই কালাম মোল্লা বিসিসির ৩০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মেজ ভাই লিটন মোল্লা ১নং কাসিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ায় ক্ষমতার দ্বম্ভে জরিত সকল অপকর্মে এই মুন্না মোল্লা। নানা অবৈধ কারবারে জড়িত থাকলেও তাঁর মূল ‘পেশা’ জমি ও বাড়ি দখল ও মাদক ব্যবসা। বাইরের জেলা থেকে এসে ওই এলাকায় জমি বা বাড়ি কিনেছেন এমন সব মানুষই তাঁর নিশানা। বিস্তার করেছে মাদকের জাল। কিছুদিনের ব্যবধানে এখন তিনি অঢেল সম্পদের মালিক।

গত বৃহস্পতিবার মুন্নার ৩ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ট্রাকভর্তি ইলিশ মাছ ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ। শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হয়। তবে ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছেন এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক মুন্না মোল্লা। তিনি বাইরে থাকায় স্থানীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, জমি ও বাড়ি দখল করে বহু নিরীহ মানুষকে নিঃস্ব করেছেন মুন্না। তাঁর কয়েকজন সহযোগী মাদক ও যৌন কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। মুন্না বিরুদ্ধে মুখ খুল্লেই তাঁকে ডাকাতি ও খুনের মামলার আসামি জেল খাটানো হয়।

তিনি বলেন, মুন্না রয়েছে ১৫-২০ সদস্যের দুর্ধর্ষ ক্যাডার বাহিনী। কয়েক বছর আগে মুন্না ছিনতাইয়ে জড়িয়ে যান।

পুলিশ জানান, মাছ ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বাদী জালাল পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর বন্দর থেকে দেড়লাখ টাকা মূল্যের ৫ মন ইলিশ মাছ ক্রয় করেন। মৎস ব্যবসায়ী জালাল ও তার শ্যালক এলাহি গত ১০ সেপ্টেম্বর ইলিশ মাছগুলো একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। ওই পিকআপ ভ্যানের চালক তাপস সরকারর ১১ সেপ্টেম্বর ভোররাতের দিকে পিকআপটি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানাধীন অমৃত গুড়া মশলার ফ্যাক্টরির সামনের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে থামায়।

এসময় সেখানে মোটরসাইকেলে করে পলাতক আসামী মুন্না মোল্লা ওরফে নূরে আলম ও গ্রেফতারকৃত মনিরুজ্জামান হাজির হন। ঘটনার সময় গ্রেফতার অপর আসামী বিশ্বজিৎ সরকার পাশের রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয়। পরে তারা ইলিশবহনকারী পিকআপটিকে চালক তাপসের সহায়তায় মহাসড়কের পাশের শাখা রোডে নিয়ে যায় এবং মৎস ব্যবসায়ী জালাল ও তার শ্যালককে পিকআপ থেকে নামিয়ে মারধর করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। এর পরপরই অন্য একটি পিকআপ এনে ইলিশ মাছগুলো সেটাতে তুলে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আসামীরা। অপরদিকে তাপস চালক তার পিকআপ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহমান মুকুল বলেন, মুন্না মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। তার বিরুদ্ধে অন্য কোন অভিযোগ থাকলে তাও খতিয়ে দেখা হবে। তাকে গ্রেপ্তারে জোর প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ