১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

ঝালকাঠিতে মডেল মসজিদ নির্মাণের জমি নিয়ে ধূম্রজাল

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ঝালকাঠিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে জেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পাকা স্থাপনাকে ডোবানালা দেখিয়ে মডেল মসজিদ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী ফাউন্ডেশন। প্রাথমিকভাবে এ জমি নির্বাচন করে চূড়ান্ত অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে।

এদিকে প্রস্তাবিত ওই জমির মালিকরা দাবি করেছেন, এই অংশে তাদের বসত-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যা তাদের আয়ের একমাত্র উৎস। তারা সরকারের প্রস্তাবিত স্থানে মসজিদটি না করে ৬০ ফুট পাশে সরিয়ে তাদেরই নিজস্ব ফাঁকা জমিতে মসজিদটি নির্র্মাণের দাবি জানান। ইসলামী ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, জেলা সদরের প্রস্তাবিত স্থানে এ মসজিদ নির্মাণ করা হলে সরকারের উদ্যোগ সার্থক হবে। একটি সুন্দর স্থাপনা বড় সড়কের পাশে হলে স্থানীয়দের বেশি উপকারে আসবে।

জমির মালিক সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট অহিদুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আলমগীর খানসহ অন্যরা জানান, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে পাওয়া নোটিশে তারা জানতে পারেন যে, তাদের মালিকানাধীন ৪০ শতাংশ জমি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য অধিগণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তারা তাদের আপত্তির কথা প্রধানমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী এবং বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে লিখিত আবেদনে জানিয়েছেন।

সেনা সদস্য অহিদুল ইসলাম বলেন, জীবনের শেষ সময়ে ৯ শতাংশ জমি কিনে এখানে পাকা স্থাপনা করেছি। এখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়ে আমার পরিবারের খরচ চলে। এখন এই জমি অধিগ্রহণ করা হলে আমি সব হারিয়ে পথে বসব।

এদিকে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৯ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন। তিনি জমি মালিকদের আশ্বাস দেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসত-ঘর ও নার্সারি বাঁচাতে মসজিদটি ৬০ ফুট উত্তরদিকে সড়িয়ে নির্মাণের জন্য চেষ্টা করা হবে। এসময় ভূমি মালিকরা এই মসজিদে প্রবেশের জন্য দক্ষিণ দিক থেকে ১৫ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তার জন্য জমি দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ শতাংশ জমির ওপর এই মডেল মসজিদ স্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা মসজিদ স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে জমি বরাদ্ধ চেয়েছি। উপজেলা ভ‚মি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার অফিস থেকে জমি অধিগ্রহণ করার কার্যক্রম করা হয়ে থাকে। এখানে জমি বরাদ্ধের ব্যাপারে আমাদের কোনো হাত নেই। ইতোমধ্যে এ কাজের দরপত্র সম্পাদনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ