২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

তিন মুসলিম নারীকে উলঙ্গ করে পেটালো পুলিশ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

তিন মুসলিম নারীকে থানায় আটকে রেখে সারারাত ধরে পিটিয়েছে পুলিশ। মারের চোটে এক নারীর গর্ভপাত হয়। এই নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পেতেই অভিযুক্ত দুই পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই নির্মম পুলিশি নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের আসাম রাজ্যে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়, ওই তিন নারীর ভাই এক হিন্দু মেয়েকে অপহরণ করে। এই অভিযোগে গুয়াহাটির ওই সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবারের তিন বোনকে দরং জেলার বুড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পেটায় পুলিশ। এ ঘটনায় সিপাঝর থানায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ওই তিন বোন।

তারা জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির সাতগাঁও এলাকায় নিজ বাসা থেকে তিন বোনকে পুলিশ সদস্যরা তুলে নিয়ে দারাং জেলার বুরহা পুলিশ ফাঁড়িতে রাখে। এক মহিলা কনস্টেবলের সাহায্যে তাদের উলঙ্গ করে রাতভর পেটানো হয়। মারের চোটে এক নারীর গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়।

প্রথমে ঘটনাটি থামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায় আসাম পুলিশ ও প্রশাসন। পরে ওই তিন নারী স্থানীয় একটি নিউজ চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ হয়।

পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় এক মাধ্যম জানায়, আসামের দরংয়ের বুড়া এলাকা থেকে একটি মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যান গুয়াহাটির রফিকুল ইসলাম। মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ পেয়ে ওসি মহেন্দ্র শর্মা রফিকুলের বাড়িতে পুলিশ পাঠান। পুলিশ রফিকুল না পেয়ে তার তিন বোনকে থানায় ধরে আনে। এরপর তাদের ওপর সারারাত ধরে চলে মারধর। একই সঙ্গে চলে অকথ্য গালিগালাজ। মারের চোটে এসময় এক বোনের গর্ভপাত হয়। পরদিন তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তখন তাদের এই বলে শাসানো হয়, এই নির্যাতনের কাহিনী প্রকাশ করা হলে তাদের হত্যা করা হবে।

কিন্তু ঘটনার পরদিনই তিন বোনের অন্যতম মিনুয়ারা বেগম দরং জেলার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ওই পুলিশ কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তিনি উল্টো নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত পুলিশের ওই কর্মকর্তা ও কনস্টেবলকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মঙ্গলবার এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর সমস্যায় পড়ে পুলিশ প্রশাসন। এরপর ওইদিনই তড়িঘড়ি করে ওসি মহেন্দ্র শর্মা ও নারী কনস্টেবল বিনীতা বড়োকে সাসপেন্ড করা হয়। এ ঘটনায় এখন তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ