২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও দুই মেয়েকে গলাকেটে হত্যা, ঘাতক আটক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মা ও তার দুই সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলো- নাজনীন আক্তার (২৭), তার মেয়ে নুসরাত জাহান নিঝু (৬) এবং খাদিজা আক্তার (২)। রক্তাক্ত আহত অবস্থায় নিহত নাজনীনের বড় বোনের একমাত্র প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরা উদ্ধার করে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিকের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিআই খোলা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছয় তলা বাড়ির ষষ্ঠতলার পূর্ব পাশের ফ্ল্যাটে নৃশংস ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক আনোয়ার হোসেন, কেয়ারটেকার কবীর হোসেন এবং নিহত নাজনীনের বড় বোন ইয়াছমিন আক্তারকে আটক করেছে। তবে ঘটনার জন্য দায়ি করা হচ্ছে নিহত নাজনীনের বড় বোন ইয়াছমিনের স্বামী আব্বাসকে। আজ বিকেলে আব্বাসকে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের একটি বিয়ের বাড়ির অনুষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। আব্বাস পেশায় খানসামা (ওয়েটার)।
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে এই পরিবারেরই কেউ এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আমরা জানতে পেরেছি নিহত নাজনীনের বড় বোনের স্বামী আব্বাস একাই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। আব্বাসের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। ঢাকা মেডিকেল চিকিৎসাধীন সুমাইয়াই বিষয়টি পুলিশকে নিশ্চিত করেছে।
এদিকে আজ সকালে ঘটনাস্থল সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে আনোয়ার হোসেনের বাড়ি ঘিরে উৎসুক জনতার ভীড়। ওই বাড়ির আশপাশের বাড়ির ছাদেও নারী-পুরুষদের ভীড়। সবাই লক্ষ্যবস্তু আনোয়ার হোসেনের বাড়ি।
খবর পেয়ে সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা দুপুরে আলামত সংগ্রহ করার পর লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ দেড়শ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।
নিহত নাজনীনের স্বামী সুমন বলেন, তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় জোনাকী পেট্রোল পাম্পে কাজ করেন। বুধবার রাতে তার নাইট ডিউটি ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তিনি বাসায় ফিরে দেখেন ফ্ল্যাটের দরজা খোলা তবে ভেড়ানো। তিনি দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করেই বড় একটি ধাক্কা খান। ফ্ল্যাটের ফ্লোরে স্ত্রী ও দুই মেয়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। পাশেই বড় ভায়রা আব্বাসের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়া আহতবস্থায় বসে কাঁদছিল। আর রক্তে পুরো ফ্লোর ভরে আছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার করে উঠেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশিরা ছুটে আসেন। ওই সময় তিনি কি করবেন বুঝতে না পেরে স্ত্রী-সন্তানদের লাশের পাশে হতভম্ব হয়ে বসে পড়েন। কোনমতে আহত সুমাইয়াকে ঘটনার সর্ম্পকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, তার বাবাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বাবা তাকেও মারার জন্য ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
সুমাইয়ার বরাত দিয়ে সুমন আরও জানান, গতকাল সকাল ৮টার দিকে আব্বাস তার ফ্ল্যাটে আসে। ওই সময় বড় বোন ইয়াছমিনকে মারধর করা নিয়ে আব্বাসের সঙ্গে নাজনীনের বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে
সুমন বলেন, তার বড় ভায়রা আব্বাসের সঙ্গে জেঠাস ইয়াছমিনের পারিবারিক কলহ চলছিল। গত মঙ্গলবারেও দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। ওই সময় আব্বাস তার জেঠাস ইয়াছমিনকে মারধর করেন। এ খবর পেয়ে শ্যালক হাসান আব্বাসের বাসায় গিয়ে আব্বাসকে মারধর করে। পারিবারিক কলহের কারণে বুধবার রাতে মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে ইয়াছমিন আমাদের বাসায় চলে আসে। বড় বোন ইয়াছমিনকে মারধরের কারণে একবার নাজনীন দুলাভাই আব্বাসকে চড় দিয়েছিল বলে জানান সুমন।
এদিকে নিহতের বড় বোন ইয়াছমিন বলেন, তিনি আদমজী ইপিজেডে সুপ্রীম নিটওয়্যার নামে একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কারণে তিনি বুধবার রাতে মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে ছোট বোন নাজনীনের বাড়িতে চলে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি কাজে চলে যান। পরে গার্মেন্টে কর্মরত অবস্থাতেই জানতে পারেন ছোট বোন নাজনীন খুন হয়েছেন। এ খবর পেয়ে তিনি নাজনীনের বাড়িতে ছুটে আসেন। তিনি আরও বলেন, তিনি নাজনীনের পাশের মহল্লা বাতানপাড়া এলাকায় স্বামী-সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। তার স্বামী মাদকাসক্ত। এ কারণে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো।
নিহত নাজনীনের শশুর নিজাম উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তার ছেলে সুমন তাকে ফোন করে বলে, বাবা আমার সব শেষ। নিঝু-খাদিজাসহ তার মাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এ খবর পেয়ে আমরা সুমিলপাড়ার বাসা থেকে দ্রুত সিআই খোলা চলে আসি। তিনি বলেন, আমার জানা মতো আমার ছেলের কোন শত্রু নাই। তাহলে কে এ ঘটনা ঘটালো। প্রেম করে নাজনীনকে বিয়ে করায় আমরা ওই বিয়ে মেনে নেইনি। তাই সুমন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সিআই খোলা এলাকায় ভাড়া থাকতো।
ওদিকে বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের ভেতর একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ঘাতক আব্বাস (৩৮) কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ