১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বরিশালে ক্যাসিনোর আদলে নিয়মিত বসে জুয়ার আসর

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক::ঢাকার মতো বরিশাল নগরীসহ জেলার দশটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পরেছে জুয়া খেলার বাণিজ্য। তার সাথে রয়েছে মাদকসেবন। নগরীর একটি ক্লাবসহ জেলার গ্রামের হাট-বাজারে ঘরের মধ্যে প্রতিদিন তাস দিয়ে জুয়া খেলার আয়োজন করছে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কতিপয় সুবিধাভোগী নেতা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নদীবেষ্টিত উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদীর চরে বনের মধ্যে জুয়া খেলার জমজমাট বাণিজ্য চলছে। এছাড়া বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ, গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের তকমা লাগিয়ে কতিপয় প্রভাবশালীরা এসব জুয়া খেলার আসর বসিয়ে বাণিজ্য করে আসছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এসব আসরে জুয়া খেলতে গিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুনরা হচ্ছেন বিপথগামী। মাঝে মধ্যে পুলিশের অভিযানে জুয়ারিদের আটক করা হলেও আয়োজকরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে। ফলে জুয়ারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান সফল হচ্ছেনা। জানা গেছে, নগরীর কালুশাহ সড়কে অবস্থিত একজন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নামের ক্লাব ঘরে জুয়ার আসর বসিয়ে রমরমা বাণিজ্য করছেন প্রভাবশালী এক যুবলীগ নেতা। প্রভাবশালী ওই যুবলীগ নেতার ভয়ে প্রশাসনতো দুরের কথা এলাকাবাসীও মুখ খুলতে চায়না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বীর ‘মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রহিম সেবা সংঘ’ নামের ওই ক্লাব থেকে বিগত ৪/৫ বছরেও কোন অসহায় ব্যক্তিরা সেবা পাওয়াতো দুরের কথা বরং ওই ক্লাবে ডেকে নিয়ে নতুন ঘর বাড়ি তৈরী করা, জায়গা ক্রয় করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মোটা অংকের চাঁদা। বিগত তিন বছর পূর্বে ওই ক্লাবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছিলো। সূত্রমতে, ওই ক্লাবের সভাপতি কতিপয় নেতৃবৃন্দের আপত্তিকর কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করেও কোন সুফল না পেয়ে ক্লাবে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রভাবশালী এক যুবলীগ নেতা ক্লাবের একটি কক্ষে নিজের খাস কামরা বানিয়েছেন। তার খাস কামরার পাশের একটি রুমে কালো গ্লাসের দরজা জানালায় আবৃত কক্ষে চলে জুয়ার আসর। একইসাথে ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় চলে মাদক সেবন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ক্লাবের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রতিমাসে ডিবি অফিস ও স্থানীয় বটতলার ফাঁড়ি পুলিশকে ম্যানেজ করে ক্লাবের মধ্যে সবধরনের অপকর্ম চলে। যা ঢাকার ক্যসিনোকেও হার মানিয়েছে। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুল ইসলাম পিপিএম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বসে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন মেঘনার বামনীচর এলাকায়। এখানে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার জুয়া খেলা হয়। নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়ারিরা সেখানে যায়। পাশের লতা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কামাল হোসেন হাওলাদার জানান, দড়িচর-খাজুরিয়ার ইউনিয়নভূক্ত বামনীচর মেঘনাবেষ্টিত একটি চর। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় ওই স্থানটি নিরাপদ হিসেবে বেঁছে নিয়েছে জুয়ারিরা। এছাড়া আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ভাঙ্গা, চরসন্তোষপুর ও জয়নগর এলাকার বিভিন্নস্থানে জুয়া খেলার জমজমাট বাণিজ্য চলছে। এছাড়াও গৌরনদী উপজেলার বড়দুলালী, বাটাজোর, মাগুরা, বার্থী, সরিকল, ভূরঘাটা, পিঙ্গলাকাঠী, শরিফাবাদ, বিল্লগ্রাম। বাবুগঞ্জের কেদারপুরের বাহেরচর। আগৈলঝাড়ার পতিহার ও ছয়গ্রাম। উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার এলাকায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় প্রভাবশালী জমজমাট বাণিজ্য করে আসছে। মাঝেমধ্যে পুলিশের অভিযানে ২/১জন জুয়ারীদের আটক করা হলেও তাদের আর আদালত পর্যন্ত আসতে হয়না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ভ্রাম্যমান আদালতে ২/৩’শ টাকা জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যায় জুয়ারিরা। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, কোন এলাকায়ই জুয়ার আসর বসতে পারবে না। যারা জুয়ার আসর বসায় তারা যতো বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন তাদের গ্রেফতারের জন্য থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোথাও জুয়ার আসর বসানো হলে সরাসরি তাকে ফোন করে জানানোর জন্যও তিনি (পুলিশ সুপার) সচেতন নাগরিকদের কাছে আহবান করেছেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ