৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বড় সাইজের কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে পবিপ্রবি’র গবেষকদের সাফল্য

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তিতে স্বল্প সময়ে বড় বড় রুই, কাতলা, মৃগেল ও সিলভার কার্প সহ কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন পটুয়াখালীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের গবেষকরা। এই প্রযুক্তিতে মাছের বড় পোনা (৪শ’ থেকে ৬শ’ গ্রাম) পুকুর বা জলাশয়ে চাষ করে ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে বড় বড় মাছ বাজারজাত করা সম্ভব। এতে আশার আলো দেখছেন মাছচাষীরা। গত ৩ বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে কার্প ফ্যাটেনিং প্রদ্ধতির উপর গবেষণায় সাফল্য পেয়ে এবার এই পদ্ধতি বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন গবেষকরা।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রামের পিবিআরজি প্রকল্পের আওতায় বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তির উপর গত ৩ বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছেন উপ-প্রকল্পের প্রধান গবেষক পবিপ্রবির একুয়াকালচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এবং সহকারী প্রধান গবেষক পবিপ্রবির ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল আলম। পবিপ্রবি’র জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মুহাম্মাদ ইমাদুল হক প্রিন্স জানান, দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্য চাষীরা সাধারণত ছোট সাইজের বিভিন্ন ধরনের কার্প জাতীয় মাছের পোনা পুকুর বা জলাশয়ে চাষ করেন। ছোট সাইজের মাছের পোনা বাজারজাতের উপযোগী হতে ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগে। জলাশয়ে ছোট সাইজের মাছের মৃত্যুর হারও বেশি। কিন্তু নতুন গবেষনায় কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তিতে ৪শ’ থেকে ৬শ’ গ্রাম ওজনের কার্প জাতীয় মাছ পুকুর বা জলাশয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি সম্পূরক খাদ্য প্রযোগ করে ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে ওই মাছ বাজারজাত করা যায়। যা দক্ষিণাঞ্চলের মৎস্যচাষীদের কাছে ছিল অকল্পনীয়। এই প্রযুক্তিতে মাছ চাষীরা স্বল্প সময়ে অধিক পরিমাণ মাছ উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে মাছ চাষীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। মুহাম্মাদ ইমাদুল হক প্রিন্স আরও জানান, কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তিতে প্রথম গবেষণায় পানির স্থরভেদে কার্প জাতীয় মাছের সংখ্যা নির্ধারণ করেন গবেষকরা। দ্বিতীয় গবেষণায় কার্প জাতীয় মাছের মজুদ ঘনত্ব নির্ধারণ করেন। তৃতীয় ধাপের গবেষণায় কার্প জাতীয় মাছ বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত সম্পূরক খাদ্য নির্ধারণে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। এছাড়া পানির গুণাগুণ পরীক্ষা, প্লাংকটনের প্রাচুর্যতা, মাছ ও পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি, মাছ ও পানিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তির পাশাপাশি উপ-প্রকল্প এলাকায় গ্রামীণ মহিলাদেরকে সম্পৃক্ত করে ছোট আকারের জলাশয়ে শিং, মাগুর, গুলশা মাছ নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছেন গবেষকরা। প্রকল্পের সুফলভোগী মো. মিলন খলিফা জানান, কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষে দক্ষিণাঞ্চলের মাছ চাষীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে মাছ চাষ করে তারা লাভবান হয়েছেন। অন্যরাও এই প্রযুক্তিতে মাছ চাষ করে লাভবান হবে বলে আশা করেন তিনি।
আরেক সুফলভোগী মো. শামীম মাতব্বর জানান, কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষ করে তার মধ্যে অনেক আশার সঞ্চার হয়েছে এবং আশেপাশের মানুষের মাঝেও সাড়া ফেলেছে। প্রকল্পের সহকারী প্রধান গবেষক ড. মো. আরিফুল আলম জানান, কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তিতে মাছ চাষের ফলে কোস্টাল অঞ্চলে কার্প জাতীয় মাছ চাষে বিপ্লব ঘটছে। এতে মাছ চাষীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশা করেন। প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তির প্রধান বাধা স্থানীয়ভাবে বড় আকারের কার্প জাতীয় মাছের অপ্রতুলতা। স্থানীয় হ্যাচারীতে বড় সাইজের পোনা উৎপাদন করে সেই পোনা পুকুর বা জলাশয়ে কিছুদিন লালন করলে কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। পবিপ্রবি’র উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, পবিপ্রবি’র মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের গবেষকদের সফল গবেষণায় কার্প ফ্যাটেনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের মাছ চাষীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

 

 

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ