৮ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বিএসসি’র অনুমোদন পেল জমজম নার্সিং কলেজ বরিশালে নার্সিংয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২১

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নার্সিং বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা প্রদানের সরকারি অনুমোদন পেল জমজম নার্সিং কলেজ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কলেজটি অনুমোদনের সুবাদে নার্সিং কোর্সে একাধিক বিষয়ে বিএসসি কোর্স অধ্যয়নের সুযোগ পাবে দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষর্থীরা। সদ্য অনুমোদন পাওয়া জমজম নার্সিং কলেজটি বর্তমানে বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে অবস্থিত।
এই কলেজে অধ্যয়নরত নার্সিংয়ের শিক্ষার্থী তুহিন আহমেদ ও অশ্রæ রাণী জানান- এই কলেজের অত্যাধুনিক ক্যাম্পাস, নার্সিং সংশ্লিষ্ট একাধিক ল্যাব ও অভিজ্ঞ এমবিবিএস শিক্ষক মন্ডলীর পাঠদানে আমাদের কলেজটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বহন করছে।
অনুমোদনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যাটস ও আইএইচটি শাখার বর্তমান অধ্যক্ষ ও সাবেক বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ আব্দুর রশিদ বলেন, জমজম গত এক দশক ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে ঝালকাঠীর সন্তান প্রবাসী মাসুদুল হক এনাম কলেজটি সর্বপ্রথম বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোডে স্থাপন করেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট (ম্যাটস), হেল্থ টেকনোলজি (আইএইচটি) ও নার্সিং ডিপ্লোমা শিক্ষার উপরে কোর্স পরিচালনা করে আসছিল। পরবর্তীতে সময়েরর দাবী আর এ জনপদে তরুণ শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজনে কলেজটিতে ব্যাচেলর কোর্স চালুর প্রস্তাবনা পেশ করা হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। দীর্ঘদিন বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাই করে অবশেষে মন্ত্রণালয় কলেজটি অনুমোদন করেন। তবে শিক্ষার্থী, শিক্ষকমন্ডলী এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় পুর্বের ক্যাম্পাস পরিবর্তীত হয়ে বর্তমানে কলেজটি বৃহৎ পরিসরে নগরীর রূপাতলীতে তার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নার্সিং কলেজটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তরুণ শিক্ষা উদ্যোক্তা সাজ্জাদুল হক। তিনি কলেজটির শিক্ষার মান উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। পেশা হিসেবে নার্সিংয়ের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে এ বিষয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের তরুণ ও যুবসমাজ সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করতে চান। আর নার্সিং হতে পারে তাদের জন্য এশটি দারুণ সেবামূলক পেশা। এই পেশায় একদিকে যেমন মানুষের সেবা করা যায়, তেমনি ভবিষ্যৎও হয় উজ্জল। কারণ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি ক্লিনিকগুলোতে পেশাদার নার্সদের কাজের সুযোগ দিনদিন বেড়েই চলছে। অন্যদিকে এনজিও, বিদেশি সংস্থা, অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি নার্সিং কলেজেও তাদের ক্যারিয়ার গড়ার এক নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তাছাড়া দেশে প্রায় সব জেলা-উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছরই অসংখ্য নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন হয়।


নার্সদের সরকারি চাকরির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নার্স নিয়োগ করে বাংলাদেশ সরকারের সেবা অধিদপ্তর। এই অধিদপ্তর থেকে গত এক দশক তথা ২০১৩, ২০১৬, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রায় প্রতিবারই ৫ হাজারের অধিক নার্সকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সামনে আরও কয়েক হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে বলে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই রয়েছে সরকারি নার্স নিয়োগ পরীক্ষা। তাছাড়া সরকার নার্সদের যে সনদ প্রদান করেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য যে কারিকুলাম অনুসরণ করেন তা শতভাগ আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় দেশের বাইরেও নার্সদের চাকরির এক বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, মালয়শিয়া, কাতার, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় দক্ষ নার্সদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়ই অধ্যয়ন করতে পারে নার্সিং কোর্সে। নার্সিং পেশার ছেলেদের বলা হয় ব্রাদার আর মেয়েদের বলা হয় নার্স। আর যারা নার্সিং পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, তারা এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে ভর্তির নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিএসসি কোর্সের জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারি নার্সিং কলেজে পড়ার সুযোগ নিতে চাইলে অবশ্যই ডিপ্লেমা নার্সিং অথবা এইচএসসি (বিজ্ঞান) পাশ পূর্বক সরকারি ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। অন্যদিকে ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সে ভর্তির জন্য এইচএসসি (যে কোন গ্রæপ) পাশ করে সরকারি ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে সরকারি কিংবা বেসরকারি যেকোন নার্সিং কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা।
কলেজটির মানের বিষয়ে পরিচালক সাজ্জাদুল হক বলেন, গত এক দশকের অভিজ্ঞতা ও এক ঝাঁক মেধাবী তরুণ শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করতে সক্ষমতা অর্জন করেছে। আন্তরিক পরিবেশ, সৃজনশীল একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স এবং নতুন পরিসরে রূপাতলীতে ডিজিটাল মানের ক্যাম্পাস হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করবে বলে আমরা মনে করি।
সরকারি অনুমোদনের ফলে কলেজটি দুটি মাধ্যমে বিএসসি কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে বলে জানা যায়। ৪ বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন বেসিক নার্সিং ও ২ বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন পোস্ট বেসিক নার্সিং। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভর্তিসহ পড়া-লেখার সকল দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান বহন করলেও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাদের সনদ প্রদান করবে ঢাকা বিশ^বিদ্যলয়। এছাড়া কলেজটির অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন সরকারি বরিশাল নার্সিং কলেজের সাবেক সিনিয়র লেকচারার ও জেলা পাবলিক হেল্থ নার্স ফজিলাতুন নেছা।

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
আমাদের চ্যানেল ৩৬৫ ফেসবুক লাইক পেজ